কার্পাসডাঙ্গা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা বেকার

হাসেম রেজা: হাতে সঞ্চয় যা ছিলো তা শেষ হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ৬ হাজার টাকা ঋণ করেছি। তাও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। এরপর কীভাবে সংসার চলবে? জানি না। দু একদিনের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। আমাদের কান্না কেউ শুনছে না। কথাগুলো বলেন, কার্পাসডাঙ্গা কলোনিপাড়ার দর্শনা ডিলাক্সের হেলপার হায়দার। চলমান অবরোধ আর হরতালের মধ্যে শুধু হায়দারই নন, পরিবহন সেক্টরের অনেকেরই অভিন্ন দশা।

গত ৫ জানুয়ারি থেকে হরতাল ও অবরোধের কারণে কার্পাসডাঙ্গার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কার্পাসডাঙ্গা ও কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের প্রায় ৪শ মোটরযান শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় তাদের পরিবার কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অন্যদিকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য পৌঁছাতে পারছেন না।

কার্পাসডাঙ্গা মোটরমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুনতান জানান, এখানে প্রায় ২০টি বড় বাস এবং ২২টি ট্রাক এবং ২০টি ছোট গাড়ি রয়েছে। এসব গাড়িতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা বেকার এবং মালিকদের কোনো উপার্জন নেই। কিছু বাস পুলিশি নিরাপত্তায় চলাচল করলেও সব রুটে পুলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।

কার্পাসডাঙ্গার মোটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আলাল জানান, হরতাল-অবরোধের কারণে প্রায় ৫০টি মোটরযান কর্মচারী এখন বেকার হয়ে পড়েছে। কোনো আয়রোজগার না থাকায় তাদের পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ও কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম, আ. লতিফ জানান, হরতাল-অবরোধের কারণে তার উৎপাদিত বেগুন, কাঁচামরিচ, বাঁধাকপি, ফুলকপি রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে পারছে না। এতে তিনি লোকসানের মুখে পড়েছেন।