অভিযুক্ত কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট প্রণব রায়ের শাস্তি দাবি করা হয়েছে
জীবননগর ব্যুরো: গেদে-শিয়ালদহ লোকাল রেল লাইনের মাজদিয়ায় অবস্থিত মাজদিয়া কাস্টমস অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট কর্তৃক পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি যাত্রী হয়রানির শিকারের খবরে ভারতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দৈনিক মাথাভাঙ্গাসহ ভারতের শীর্ষ দৈনিক আনন্দবাজারে খবরটি গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের কৃষ্ণনগর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। নেমেছে অভিযুক্ত কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট প্রণব রায়ের বিরুদ্ধে তদন্তে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার কাশীপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের স্ত্রী তানিয়া খাতুন (২৫) পাসপোর্ট নং এএফ ৭৭৫৭৭২৬ চিকিৎসার জন্য চাচাতো দুই ভাই বিশারত আলী (২৮) পাসপোর্ট নং বিকে ০০০৫৯৫৩ ও ঝনুকে (২৬) পাসপোর্ট নং বিএফ ০৭৮৯২১৪ সাথে গেদে চেকপোস্ট হয়ে ভারতের কোলকাতায় যান। চিকিৎসা শেষে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় শিয়ালদাহ রেল স্টেশন থেকে গেদে চেকপোস্টে আসার জন্য তারা ট্রেনে ওঠেন। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মাজদিয়া রেল স্টেশনে পৌঁছুলে শাদা পোশাকে ৪/৫ জন নিজেদেরকে কাস্টমসসের লোক পরিচয় দিয়ে তল্লাশির নামে তাদেরকে ট্রেন থেকে নামিয়ে নেন। অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তানিয়াকে একটি কক্ষে নেন এবং তার অপর দুই চাচাতো ভাইকে পৃথক কক্ষে নেয়া হয়। কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট প্রণব রায় তানিয়াকে তল্লাশির নাম করে একাধিকবার তার শরীরে হাত দিয়ে শ্লীলতহানি ঘটানোসহ তার নিকট থাকা ৬ হাজার রুপি কেড়ে নেন। এ সময় তাদেরকে ছেড়ে দিতে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে দীর্ঘক্ষণ আটক রাখার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে পৃথক শাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ট্রেনে তুলে দেয়া হয়। এ ঘটনায় ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃক নিগৃহীত পাসপোর্টধারী ঝনু জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা গেদে চেকপোস্টে পৌঁছুনোর পর বিষয়টি জানাজানি হলে উপস্থিত সকলের মধ্যে ক্ষেভের সৃষ্টি হয়। তানিয়া খাতুন এ সময় অভিযুক্ত কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর কাস্টমস কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
এদিকে অভিযোগে করা হচ্ছে খবর পেয়ে কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট প্রণব রায় গেদে চেকপোস্টে ছুটে আসেন এবং তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ সময় তাদেরকে উল্টো ৫০ হাজার রুপি উৎকোচ দেয়ার কথা বলে বিষয়টি আর কাউকে না জানানোর প্রস্তাব দেন। এ অবস্থার মধ্যে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা বিএসএফের সহযোগিতায় রাত ১০টার দিকে ওই ৩ বাংলাদেশিকে দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছে দেন।
এদিকে অভিযোগ পেয়ে গত শুক্রবার উভয় দেশের সাংবাদিকরা খোঁজ নিতে মাজদিয়ায় গেলে তারা ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান। এ সময় উপস্থিত ভারতীয় জনগণ জানান, পাসপোর্টধারী যাত্রীদের সাথে কেউ এতো খারাপ আচরণ করতে পারে এটা ভাবাই যায় না। শুধু একজন কাস্টমস কর্মকর্তার জন্য ভারতের দুর্নাম ছড়াবে। তারা অভিযুক্ত ওই কাস্টমস কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করেন।