মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ : কৃতকার্যদের অভিনন্দন

 

এবারে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো বুধবার। ফলাফল পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, সামগ্রিকভাবে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন। উল্লেখ্য, গতকাল সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এই অনুলিপি তুলে দেন। বলা প্রয়োজন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার গত বছরের চেয়ে পাসের হার বেড়েছে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। কেননা গতবার পাসের হার ছিলো ৮৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। তবে পাসের হার বাড়লেও গত বছরের চেয়ে এবার মোট জিপিএ-৫ কমেছে। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন। আমরা এবারের ফলাফলে কৃতকার্যদের যেমন অভিনন্দন জানাতে চাই, তেমনি যার অকৃতাকার্য হয়েছে কিংবা আশানুরূপ ফল করতে পারেনি, তারা যেন ভবিষ্যতে সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে এমন প্রত্যাশা করি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এর আগে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল, অবরোধসহ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মধ্যেও পড়েছে শিক্ষার্থীরা। স্বাভাবিকভাবেই এরকম ঘটনা শিক্ষার অগ্রগতির জন্য প্রতিবন্ধক। ফলে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলগুলোই এ বিষয়গুলো আমলে নেবে এমনটি কাম্য। আমরা মনে করি, এবারে ফলাফল নিঃসন্দেহেই ইতিবাচক। শিক্ষা ক্ষেত্রের এই উজ্জ্বল চিত্র আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য গৌরবেরও। আর পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণেই এ সাফল্য এসেছে বললে অযৌক্তিক হবে না। আর এবার পাসের হার বেড়েছে সত্য, কিন্তু জিপিএ-৫ কেন কমলো তাও পর্যবেক্ষণ করা জরুরি বলেই আমরা বিবেচনা করি।

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এবং সামগ্রিক অর্থে শিক্ষার উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। আমরা চাই, বর্তমান সময় এবং বাস্তবতা সাপেক্ষে সেই প্রচেষ্টা জারি রাখার সঙ্গে সঙ্গে আরো বেশি শিক্ষার আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে এটাও বলতে চাই. যারা জীবনের প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ এ ধাপ অতিক্রম করে উচ্চশিক্ষার দিকে অগ্রসর হতে যাচ্ছে তাদের পরবর্তী শিক্ষার প্রত্যেকটি ধাপগুলো যাতে মসৃণ হয় সে ব্যাপারেও সরকারকে লক্ষ্য রাখা সমীচীন। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর দেশের ৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি! শতভাগ ফেল করা এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। যখন শিক্ষার হার এগিয়ে যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করছে তখন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করল তা বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নিতে হবে। যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ হয়।
সর্বোপরি আমরা সরকারকে বলতে চাই, শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে নয়, অধিকার হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর এজন্য শিক্ষার্থীদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাগ্রহণের পথের বাধা বা প্রতিবন্ধকতাগুলো নিরসনে সরকার যত বেশি সজাগ থাকবে ততই তা দেশ ও জাতির জন্য হবে মঙ্গলজনক। প্রতিবছর যে হারে শিক্ষার্থী মাধ্যমিকে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে, মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বল্পতা, কিংবা প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পেরে তাদের মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কিনা এই বিষয়গুলোকেও আমলে নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এটা নিশ্চিত যে, পরীক্ষার ফলাফলের সাথে শুধু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতই নয়, দেশের ভবিষ্যতও জড়িত। সঙ্গত কারণেই দেশের সব শিক্ষার্থীরা বাধাহীনভাবে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

Leave a comment