গাজীপুরে বিএনপির মিছিলে পুলিশের গুলি : মেয়র মান্নানসহ ৩০ জন আহত

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পুলিশের তীব্র সমালোচনা

 

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ শটগানের গুলি, লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন নয়জন। অপরদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ইট-পাথরের আঘাতে একজন এসআইসহ পুলিশের ১৫ সদস্য আহত হয়েছেন বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। ছাত্রদল ও যুবদলের পাঁচকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ঢাকায় পুলিশে বাধার মুখে পড়ে বিএনপির বিক্ষোভ। চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই বিক্ষোভ মিছিলসহ সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে সারাদেশের ন্যায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ৪টার দিকে সাহিত্য পরিষদের সামনে থেকে বের হয়ে মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় সাহিত্য পরিষদ চত্বরে ফিরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সমাবেশে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্মআহ্বায়ক খন্দকার আব্দুর জব্বার সোনার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সরদার আলী হোসেন, এম জেনারেল ইসলাম, রউফুন নাহার রিনা, সিরাজুল ইসলাম মনি, রফিকুল হাসান তনু, মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, সদর উপোজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এমএম শাহজাহান মুকুল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসিরুল ইসলাম সেলিম। চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মুন্সি আওরঙ্গজেব বেল্টু, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মঙ্গল। আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক মিল্টন মল্লিক। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাজি আব্দুল মান্নান, জেলা ওলামা দল নেতা হাফেজ আনোয়ার হোসেন, জেলা ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদ মো. রাজিব খান, শাহজাহান খাঁন, মোমিনুর রহমান মোমিন, যুবনেতা খালিদ মাসুদ মিল্টন, সাইফুর রশিদ ঝন্টু, মাসুদুল হক মাসুদ, ছাত্রনেতা আশিকুল হক শিপুল, রিন্টু মহলদার প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র এখন পুলিশের বুটের নিচে। পুলিশ কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতাদের ভাষায় কথা বলছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা এতোই ক্ষমতাশালী হয়েছেন যে তারা সমাবেশের অনুমতি দেন না। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ দ্বৈতনীতি নিয়েছে। তারা আওয়ামী লীগকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়, কিন্তু বিএনপিকে অনুমতি দেয় না। এভাবে বাধা দিতে থাকলে একদিন বাধার বাঁধ ভেঙে যাবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার ভবিষ্যতে কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেবে না। সরকার গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেবে। গত শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মালিক মজু।

অপর দিকে গাজীপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ও কাদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এতে মেয়র অধ্যাপক আব্দুল মান্নানসহ ৩০ জন নেতাকর্মীআহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অন্তত ১০ জনকে আটক করেছে। গতকাল রোববার সকালে শহরের রাজবাড়ি সড়কে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর মহানগর বিএনপির উদ্যোগে সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিল পূর্ব সমাবেশে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্ততি নিলে পুলিশ অতর্কিত লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় নেতাকর্মীও পথচারীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। পুলিশের বেধড়ক পিটুনি, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে এবং  হুড়োহুড়িতে পড়ে গিয়ে মেয়র এমএ মান্নানসহ অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশ জানায়, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সমাবেশ স্থলে  বিএনপির দু গ্রুপের মাঝে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির উদ্যোগে জনসভার অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে বিএনপি গতকাল রাজধানীর থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করেছে। এসব সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সরকারের দমন-পীড়ন বন্ধ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান হয়। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে থেকে ধানমণ্ডি থানা বিএনপির একটি মিছিল গ্রিন রোড হয়ে ধানমণ্ডি ৮ নং রোডে গিয়ে শেষ হয়। এখানে নেতারা বক্তব্য রাখেন। কাওরান বাজারে প্রগতি টাউয়ারের সম্মুখ থেকে মিছিল শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেখান থেকে আবুল কাশেম, কালাম, কামালসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। বিএনপি নেতা ফজলুল হক, সাদ্দাম হোসেন, হাবিব আহত হয়। মিরপুরে একটি মিছিল মিরপুর চিড়িয়াখানা রোড হয়ে মিরপুর কমার্স কলেজে গিয়ে শেষ হয়। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এক বিবৃতিতে মিছিল চলাকালে হামলা ও গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দকে অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানান।

Leave a comment