স্টাফ রিপোর্টার: যাত্রীদের পিটুনির একপর্যায়ে পালানো রয়েল এক্সপ্রেসের সুপারভাইজার মিল্টনকে খুঁজছে ঢাকা গাবতলী থানা পুলিশ। রয়েল এক্সপ্রেসের ওই কোচসহ কোচের চালক ও হেলপারকে গাবতলী থানা পুলিশ গতকাল আটকে রেখে মিল্টনকে হাজির করার জন্য তাগিদও দেয়া হয়। সূত্র এরকমই তথ্য জানিয়ে বলেছে, চলন্ত কোচে নির্যাতনের শিকার কিশোরী যাত্রীর কথাবার্তায় অসঙ্গতি পাওয়ার কারণে কোচের মালিকপক্ষ প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, রয়েল এক্সপ্রেসের একটি কোচ গতপরশু রাত ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা কাউন্টার থেকে ঢাকার গাবতলীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ওই কোচে আনুমানিক ১৬/১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা রেলপাড়ার এক নারীসহ কয়েকজন। কিশোরী যাত্রীর আসন হয় কোচের একদম পেছনে। কোচযোগে গাবতলী যাওয়ার পথে কোচের সুপারভাইজার মিল্টন ওই কিশোরী যাত্রীর শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ তোলেন কোচেরই কয়েক যাত্রী। যাত্রীদের সামনে কিশোরীও আপত্তিকর ঘটনার বর্ণনা দেয়। যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কোচের মধ্যেই কোচের সুপারভাইজার চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার ইব্রাহিমপুরের মিল্টনকে পিটুনি দিতে শুরু করেন। কিশোরী যাত্রীকে কোচের সামনের আসনে নিয়ে বসানো হয়। সুযোগ বুঝে মিল্টন নবীননগর এলাকায় গাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। কোচের যাত্রীরা গাবতলী পৌঁছুলে পুলিশের কাছে ঘটনা জানান। পুলিশ রয়েল এক্সপ্রেসের কোচটি থানায় নেয়। একই সাথে কোচচালক ও হেলপারকে থানায় আটকে রাখে। কিশোরীর জবানবন্দি নেয়। গতকাল এদের থানায় রেখে সুপারভাইজারকে ধরার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ আজ মামলাসহ আদালতে সোপর্দ করতে পারে।
কে এই কিশোরী? বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে চুয়াডাঙ্গা রেলপাড়ার এক নারীসহ অনেকেই বলেছেন, গত শুক্রবার দুপুরে একটি ট্রেনের পেছনে ছুটছিলো দেখে কয়েকজন তার গতিরোধ করে। ট্রেনের পেছনে ছোটার কারণ জানতে চাইলে সে জানায় তার বাড়ি ঢাকার গাবতলী। এরপরই রেলপাড়ার ওই নারীর নিকট তাকে রাখা হয়। সকলে মিলে কিছু টাকা তুলে রয়েল এক্সপ্রেসের টিকেট কেটে শুক্রবার রাত ৮টার কোচে তুলে দেয়া হয়। এরপরই ঘটে বিপত্তি।
এ বিষয়ে রয়েল এক্সপ্রেসের অন্যতম স্বত্বাধিকারীর সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিশোরী মানসিক প্রতিবন্ধী। ঘটনার আড়ালে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুপারভাইজার মিল্টন দোষ করলে অবশ্যই তার উচিত শাস্তি হোক তা আমরা চাইবো। তার দায়ভার আমাদের পরিবহন নিশ্চয় নেবে না।