স্টাফ রিপোর্টার: নাম আসুরা খাতুন। বয়স লেখা আছে ২৫ কিন্তু না। গতকাল দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে আসে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। কিভাবে মারা গেছে জানতে চাইলে বলতে পারেননি তার স্বজনরা। তারা বলেন, সেটা জানার জন্যই এখানে নিয়ে আসা। গতকাল বিকেলে ময়নাতদন্তের পর জানা যায় কিছু কথা। ময়নাতদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা আসুরা খাতুন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। এ কথায় আসুরার স্বজনরাও চমকে ওঠেন। নিহত আসুরার চাচা সাইফুল ইসলাম জানান, ৩ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলো। গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। লাশ নেয়া হয় বাপের বাড়ি জীবননগর রায়পুরের বারাদী গ্রামে। শুরু হয় নানা গুঞ্জন। খবর পায় স্বামীর বাড়ির লোকজন। সন্ধ্যায় খবর পায় পুলিশ। গ্রামের নানা মানুষের নানা কথা শুনে লাশ নেয়া হয় থানায়। গতকাল মঙ্গলবার লাশের ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। লাশের সাথে আসা গ্রামের কয়েকজন জানান, ২ বোন ১ ভাইয়ের মধ্যে আসুরা খাতুন সবার বড়। ৩ বছর আগে মেয়েটি যখন ৭ম শ্রেণিতে পড়তো তখনই বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার বুছতলা গ্রামে। বিয়ের ১ বছরের মাথায় মেয়েটি স্বামীর ঘর ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে আসে। বছরখানেক বাপের বাড়িতে থাকার পর আপস-মীমাংসায় দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়। তারা আরও জানান, একই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে আছের আলী প্রেমসম্পর্ক করে প্রায় ৩ মাস আগে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। আসুরার বাবা জীবননগর থানায় অপহরণ মামলা করে। পুলিশ খুঁজতে থাকে তাদেরকে। আন্দুলবাড়িয়ার কোনো এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে দুজন বিয়ে করে। সেখানে মাসখানেক থাকার পর আসুরাকে রেখে পুলিশের ভয়ে ঢাকায় চলে যায় আছের আলী। ঢাকায় যাওয়ার পর আসুরার সাথে আর যোগাযোগ রাখে না সে। তাকে খুঁজতে বের হয় আসুরা। আর ফেরেনি আত্মীয়ের বাড়িতেও। এ সময় আরও বেশি তৎপর হয় পুলিশ। কিন্তু খুঁজে পায় না মেয়েকে। গত শুক্রবার খালিশপুরের এক ভ্যানচালক আসুরাকে নিয়ে হাজির হয় আসুরার বাড়িতে। ভ্যানচালকের কাছে থেকে বাড়ির লোকজন জানতে পারে ১ মাস আগে আসুরা একরাতে রাস্তার ওপরে কান্নাকাটি করছিলো। এ সময় পথচারী ওই ভ্যানচালক তার পরিচয় জানতে চাইলে সে তার কেউ নেই বলে পরিচয় দেয় এবং তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। ভ্যানচালক তাকে নিয়ে বাড়িতে যায়। প্রায় মাসখানেক বাড়িতে থাকার পর হঠাত গত বৃহস্পতিবার রাতে কাঁদতে থাকে। তখন কাঁদতে কাঁদতে বলে আমার বাবা-মা আত্মীয়স্বজন সবই আছে। তার কথামতো ওকে নিয়ে আমি এখানে আসলাম। বাড়ির লোকজন তার সামনে ওকে কিছু না বললেও পরে নানা কথা বলে। একথায় অভিমান করে তার ঘরের মধ্যে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। খাওয়া-দাওয়া যা কিছু প্রয়োজন সবই করতো ঘরের মধ্যে। প্রতিবেশীরা কেউ আসুরার কথা জিজ্ঞাসা করলে বাড়ির লোকজন বলতো ওর জ্বর হয়েছে শুয়ে আছে। গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের পর লাশ নেয়া হয় নিজগ্রামে। সেখানেই তার দাফনকাজ সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন গাঢাকা দিয়েছে।