চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে

 

ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির প্রতিবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মামলার বাদী

 

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অনাথ ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। ইতোমধ্যেই মেডিকেল টিম প্রতিবেদন পুলিশের কাছে পৌছে দিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই পিয়ার আলী বলেছেন, মামলার আসামি ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আহাদ আলী জেলহাজতে রয়েছে। তদন্তের অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে।

এদিকে গতকাল দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় প্রকাশিত ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাড. নূরুল ইসলামের প্রতিবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মামলার বাদী তথা ধর্ষণের শিকার দশম শ্রেণির ছাত্রীর ভগ্নিপতি। তিনি প্রতিবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষক আহাদ আলী পরিকল্পিতভাবেই ডেকে নিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। বিষয়টি আমরা জানার সাথে সাথেই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাড. নূরুল ইসলামকে জানিয়েছিলাম। মোবাইলফোনে ১৩ মিনিট ১১ সেকেন্ড ধরে বিষয়টি জানানোর পর প্রয়োজনীয় সহযোগতার বদলে হুমকির শিকার হতে হয়েছে। যে রাতে মোবাইলফোনে সভাপতিকে জানানো হয়, এই রাতেই লোক পাঠিয়ে মামলা না করতে বলেন। হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বলেন। এরপরই আমরা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানাতে বাধ্য হই। মামলা করি। এখনও ধর্ষককে বাঁচানোর অপকৌশল অব্যাহত রয়েছে। মোবাইলফোনে যে কথা হয়েছে তা প্রশাসন সংগ্রহ করলে অনেক কিছুরই প্রমাণ মিলবে।

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী ইংরেজি শিক্ষক পদে নেহালপুরের ছেলে আহাদ আলী বছর দেড়েক আগে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি অবিবাহিত। থানা কাউন্সিলপাড়ার একটি বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন। ওই বাড়িতেই প্রাইভেট পড়াতেন। দশম শ্রেণির ছাত্রীকে শুক্রবার প্রাইভেট পড়তে আসতে বলে। সে বাড়িতে গিয়ে দেখে অন্য কেউ নেই। স্কুলছাত্রী এ তথ্য দিয়ে বলেছে, স্যার জোর করে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ এপ্রিল। ঘটনার ৪ দিনের মাথায় ৪ মে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জেনে শিক্ষককে পিটুনি দেয়। পরবর্তীতে মামলা হয়। ওইদিনই গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর আত্মীয়স্বজন বিদ্যালয়ের সভাপতিকে জানান ৩০ এপ্রিল। পরবর্তীতে জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। এপরও চলে বিষয়টি ধামাচাপার নানা পাঁয়তারা।

Leave a comment