দাবদাহে পুড়ছে দেশ : তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকারই পূর্বাভাস

 

স্টাফ রিপোর্টার: বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির মতোই যেনো তাকিয়ে আছে মানুষ। সকল হতে না হতেই তেতে উঠছে মাটি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে গরম হয়ে যাচ্ছে সব কিছু। আর রাতে? অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে দেদারছে ঘামছে শরীর। তীব্র খরায় মাঠের পাটসহ ফসল পুড়ে যাচ্ছে। অথচ বৃষ্টি নেই। নেই  কালবোশেখিও।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাঙামাটি, চাঁদপুর, নোয়াখালী, দিনাজপুর ও সৈয়দপুর অঞ্চলসহ বরিশাল, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গতকাল শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো রাজারহাটে ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৪ ও সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যশোরে সর্বোচ্চ ৪০ ও সর্বনিম্ন ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস  রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকা ও সিরাজগঞ্জে গরমে হিটস্ট্রোকে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঢাকায় একটি চলন্ত প্রাইভেটকারে আগুন ধরে গেলে তীব্র দাবদহের কারণেই হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রত্যক্ষদশীদের অনেকে। দেশের অধিকাংশ এলাকার ওপর দিয়েই বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। রংপুরে সর্বোচ্চ ৩৫ এবং সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিলো।

গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ মরসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

Leave a comment