বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টি হতে না হতেই গ্রাম বাংলায় জলাবদ্ধতা

এখন শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলেই জলাবদ্ধতা বেশি দেখা যায়। কারণ? শহরবাসী বহু ভোগার পর পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা কিছুটা হরেও গড়ে তুলেছে, আর গ্রামে হয়েছে উল্টোটা। খাল-বিল, নদী-নালায় পানি যাওয়ার নালাসহ নিচু জমি ভরাট হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বহু কালভার্টের মুখ। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। ষড়ঋতুর দেশে বর্ষাকালে স্বাভাবিক বৃষ্টি হতে না হতেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে বিশাল বিশাল মাঠের আবাদ জলমগ্ন হয়ে পড়ছে, ডুবে যাচ্ছে গ্রাম্য রাস্তা। শুকনো জমি না পেয়ে ডাঙার কীটগুলো দিশেহারা হয়ে পড়ছে। এসবের খেসারত মানুষকেই দিতে হচ্ছে।
জনসংখ্যা বিস্ফোরণের কারণে মানুষ সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। শুধু কি আবাদি জমি, বন-বাদাড়? নিজেদের বসবাস করার স্থানের পানি নিষ্কাশনের নালাগুলোও গিলে খেয়েছি আমরা। অথচ এসব ভরাট রোধে দেশে আইন আছে। আছে আইন প্রয়োগের জন্য প্রশাসনও। বাস্তবে যেভাবে নদ. নদী, খাল বিল, নালা গ্রাস হয়েছে, হচ্ছে তা দেখে তা রোধে কোনো আইন আছে কি-না তা বিশ্বাস করা সত্যিই কঠিন। চুয়াডাঙ্গা ভালাইপুরের ভাইমারা খালই শুধু নয়, রাজাপুরের বানাতখালসহ বহু খালে পানি যাওয়ার রাস্তা আটকে হয় আবাসন গড়ে তোলা হয়েছে, না হয় ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে রাস্তা। কুমার নদ, ভৈরবের বুকে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরির সাহস মূলত লিজের কাজই জুগিয়েছে। এ অবস্থায় গ্রামবাংলায় বর্ষায় বৃষ্টি হতে না হতেই জলাবদ্ধতায় একর একর জমির আবাদ বিনষ্ট হবে না তো কি হবে? শুধু কি ফসল নষ্ট হচ্ছে, আবাসিক এলাকাও ডুবে যাচ্ছে। পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে বলেই বর্তমান সরকার শহরের মতোই গ্রামেও আবাসন বা ঘরবাড়ি তৈরি কলকারখানা স্থাপন বা নির্মাণের জন্য অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদনদাতা কর্তা দেখবেন প্রস্তাবিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে জল গড়ানোর পথ আটকাচ্ছে কি-না, পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি-না। যদিও শহরে এ আইন বহুদিন ধরে ধাকার পরও কি সর্বক্ষেত্রে তা প্রয়োগ হয়? হলে কি আর ঘিঞ্জি জনবসতি গড়ে ওঠে? পৌর এলাকায় এমনও কিছু জনবসতি রয়েছে যেখানে অসুস্থ কাউকে নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা রিকশাও ঢুকবে না। মরে গেলে খাটিয়া ঘোরানোর সুযোগ নেই। আগুন লাগলে দমকল? আগুন লাগলে ওই লালগাড়ি ঢোকা শুধু দুঃস্বপ্নই নয়, অধিকাংশ মহল্লায় নেই পানির জোগান। কিছু এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করাও হয়ে দাঁড়িয়েছে দুঃসাধ্য।
পিঁপড়ার জীবনচক্র বিশ্লেষণ করে এই মানুষই দেখেছে ওদের সংগ্রামী ঐক্যবদ্ধ পরিচ্ছন্ন প্রয়াসের চিত্র। যেখানে ঘুমোয়, থাকে খায়, সেখানে মলত্যাগ করে না। ওরা অতোটুকু হয়েও অতোবড় সতর্ক বা অতোটা দূরদর্শী হতে পারে, অথচ আমরা আমাদের স্বার্থে আমাদের প্রিয় ধরিত্রীকে ববাসের উপযোগী রাখতে পারছি না। কেন? মানুষ জেনে-শুনে, বুঝে সুজেও সামান্য ব্যক্তিস্বার্থে যাদের জেগে ঘোমানো স্বভাবে দাঁড়িয়েছে তাদের কি আর এমনিতে শুধরানো সম্ভব? দরকার আইনের যথাযথ প্রয়োগ, প্রয়োজন আইন প্রয়োগকারীদের কাজে স্বচ্ছতাসহ তাদের জাগিয়ে তোলার মতো জবাবদিহিতা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *