তীব্র গরমের চুয়াডাঙ্গায় চাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত

 

গরমের সময় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অধিকাংশ সময়ই রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায়। শীতের সময়ও তীব্র শীত। ভৌগলিক কারণে যখন চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহবাসীকে বৈরী আবওয়া সহ্য করতে হয়, তখন সরকারের বাড়তি নজর প্রত্যাশা নিশ্চয় অমূলক নয়। বিশেষ করে গরমের সময় বিদ্যুত, শীতের সময় দুস্থদের জন্য আগেভাগে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সরবরাহে আন্তরিকতা অত্যাবশকীয়।

শুরু হয়েছে গরম মরসুম। গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুতেরও আসা-যাওয়া শুরু হয়েছে। অথচ দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুত উৎপাদন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বারবারই দাবি করছে। তাহলে চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুতের অতো আসা-যাওয়া কেন? কেনই বা লোভোল্টেজ? উৎপাদন যেখানে যতোটুকুই হোক, জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে বিদ্যুত বণ্টন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে মানসম্পন্ন বিদ্যুত তথা যথাযথ ভোল্টেজের বিদ্যুত সরবরাহের নিমিত্তে ৩৩ কেভি সাবগ্রিড স্টেশনও স্থাপন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হলেও কয়েক বছর আগেই চালু হয়েছে। এরপরও বিদ্যুতের লোভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বিনষ্টের হিড়িক লেগেই আছে। এরপর গরম শুরু হতে না হতে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া ক্রমশ অসনীয় হয়ে উঠছে। দিনে ও রাতে মোট কতোবার বিদ্যুত আসে আর যায় তার হিসেব রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কেন? চাহিদা মতো বিদ্যুত পাওয়া যায় না? নাকি বিতরণের ত্রুটি? সামান্য বাতাসেই বিতরণ ব্যবস্থায় নেমে আসে বেসামাল অবস্থা। আবার চাহিদা মতো বিদ্যুত পাওয়ার হিসেবেও রয়েছে গড়বড়।

গত কয়েকদিন ধরেই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়। তীব্র খরা। সকাল হতে না হতেই যেনে বয়ে যাচ্ছে লু-হাওয়া। দুপুরে? শহরের সড়কও যেন হয়ে পড়ছে জনশূন্য। জরুরি কাজ না থাকলে তেমন কেউই দুপুরে রাস্তায় বের হচ্ছেন না। দোকানিদের দুপুরে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। অফিসে চেয়ারে বসেই ভাত-ঘুম কিম্বা ভাতঘুমের হাই উঠছে। এ অবস্থায় যদি বিদ্যুত না থাকে তাহলে অসহনীয়র মাত্রা কোন পর্যায়ে তা উপলব্ধি করা নিশ্চয় কঠিন নয়। যদিও কেন্দ্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুরের তীব্রতা অনুভব অতোটা বোধ হয় সহজ নয়। সে কারণেই কি চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়া? নাকি বিতরণের ত্রুটি লেগেই রয়েছে? সেটাও তো জরুরি ভিত্তিতে দেখে দরকার। অবশ্য বিতরণের তেমন ত্রুটির কথা শোনা যায় না, স্থানীয় বিতরণ বিভাগ থেকে একই তথ্য দিয়ে বলা হয়, যখন যেমন বিদ্যুত পাওয়া যায়, তখন তেমনভাবেই বিতরণ করা হয়। অবশ্য হিস্যা নিতে না পারার ব্যর্থতার বিষয়টিও কেউ কেউ মুখ বাকিয়ে বলেন। সে উদ্যোগে কিছুটা হলেও যে ঘাটতি আছে তা অস্বীকার করা যায় না। কারণ চুয়াডাঙ্গা বিতরণ কেন্দ্রে চাহিদার সামান্য সরবরাহ পাওয়া গেলেই তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেহেরপুরে সরবরাহ করতে হয়।

দেশের উত্তরপ্রান্তে দিনে ব্যারোমিটারের পারদ উঁচুতে চড়লেও পিছিয়ে থাকে না চুয়াডাঙ্গা, যশোর। উত্তরবঙ্গে দিনের তাপমাত্রা বেশি থাকলেও রাতে হিমেল হাওয়া প্রকৃতির আর্শিবাদ। চুয়াডাঙ্গা, যশোরের ক্ষেত্রে ভিন্ন। দিনের রোদের প্রখরতার তীব্র প্রভাব শেষ রাত পর্যন্ত থাকে। ফলে গরমের সময় স্বস্তি বলতে নিরবচ্ছিন্ন মানসম্পন্ন বিদ্যুত। এ কারণেই প্রয়োজন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষ নজর।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *