তাই বলে খিদের তাড়নায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা?

 

সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করা যায়নি ঠিক, তাই বলে খিদের তাড়নায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা? অমূলক বা অবাস্তব না হলেও বিশ্বাস করা কঠিন। যদিও আত্মহত্যা প্রবণতা পেয়ে বসেছে তবুও সন্দেহ থেকেই যায়। কারণ, যে কিশোরী খিদে সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে বলে তার মাসহ নিকটাত্মীয়স্বজন দাবি করেছে ওই কিশোরী একা ছিলো বাড়িতে। তাছাড়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করা হলেও আলামত রহস্যাবৃত। মূলত এ কারণেই পুলিশ লাশ ময়নাতদন্ত না করে দাফনে সম্মত হয়নি। শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ উপেক্ষা করে পুলিশের এ পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। কেননা, আইন প্রয়োগকারীদের শোকার্তদের আকুতিতে আইন ভুললে চলে না।

চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের তিতুদহ ইউনিয়নের সড়াবাড়িয়া উত্তরপাড়ার হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে মহিমা খাতুন ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। তার পিতা কয়েকজনের সাথে কাজের সন্ধানে ফরিদপুরে যাওয়ার দু দিনের মাথায় মহিমার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। মহিমার মা আর্জিনার দাবি, পূর্ব রাতে সামান্য ভাত রান্না করেন। তা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে কচু তোলার দিনমজুরির কাজে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মহিমা খিদে লেগেছে বলে জানায়। গরিবের মেয়ের অতো খিদে লাগে কেন? বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি কিছু কড়া কথাই বলেন। সেকারণেই সে একা বাড়িতে থাকা অবস্থায় ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ অবশ্য আর্জিনার এ দাবি বিশ্বাস করেনি। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা? নাকি কেউ হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে? কিশোরী মহিমার মৃত্যুর আড়ালে আরো কিছু লুকিয়ে থাকতে পারে ভেবেই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেয়।

যেকোনো অপমৃত্যুরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের বিধান রয়েছে। অবশ্য কোনো কোনো অপমৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমোদনও মেলে। এ অনুমোদনের কারণে অনেক হত্যাকাণ্ডও যে বেমালুম ধামাচাপা পড়ে যেতে পারে তা অস্বীকার করা যায় না। এরপরও সন্দেহাতীত কিছু আত্মহত্যা থাকে বলেই আবেদনের ভিত্তিতে বিশেষ অনুমোদন দেয়ারও সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগের অপব্যবহার বেড়ে গেলে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া অমূলক নয়। বিশেষ করে পারিবারিক অপরাধ প্রবণতা। তাছাড়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়টি তো দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত। তা না হলে আত্মহত্যা প্রবণতা অতো বৃদ্ধি পাবে কেন? সড়াবাড়িয়ার মহিমা কিশোরী। সে যদি সত্যিই আত্মহত্যা করে তাহলেও তার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভাব? খিদে সহ্য করতে না পেরে আত্মাহুতি? যদি তাই হয় তাহলেও কি সমাজের দায়িত্বশীলদের নীরব থাকা উচিত?

হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মহিমার অপমৃত্যু রুখতে না পারার দায় সমাজ যেমন এড়াতে পারে না, তেমনই তার অপমৃত্যুর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে তদন্ত না হওয়াটাও অন্যায়। অবশ্য সেই অন্যায়ের উদাহরণ অসংখ্য থাকলেও মহিমার ক্ষেত্রে তেমনটি হয়নি। আইনের দৃষ্টিতে প্রাথমিক পদক্ষেপটিই নিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তে অবশ্যই তার অপমৃত্যুর মূল কারণ বেরিয়ে আসবে। মহিমা সত্যিই খিদে সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলে তার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করতে না পারা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। আর তদন্তে যদি হত্যাসহ আরো কিছু বেরিয়ে আসে? ঘটনার হোতাদের মুখোশ খুলবে। আইনে সোপর্দ করা হবে। দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দ্বার খুলবে। আর তদন্তই যদি না হয়?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *