মেহেরপুর গাংনীর বিভিন্ন গ্রামে ১৭ জন অ্যানথ্রাক্স রোগীর সন্ধান : জেনেশুনেই খাওয়া হচ্ছে আক্রান্ত পশুর মাংস

No Image

মাজেদুল হক মানিক: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অ্যানথ্রাক্স জীবাণুতে আক্রান্ত আটজন রোগীর চিকিৎসা প্রদান করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গতকাল শনিবার দুপুরে বেতবাড়িয়া গ্রামের পাঁচজন, হাড়াভাঙ্গা গ্রামের দুজন ও আড়পাড়া গ্রামের একজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স জীবাণু থেকে সৃষ্ট ক্ষত ঘা এর চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানান গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার আনোয়ারুল ইসলাম। এরা হচ্ছেন- বেতবাড়িয়া গ্রামের মৃত রিয়া উদ্দীনের ছেলে রবকুল হোসেন (৬০), জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী আছিয়া খাতুন (৪৫), জামান মিয়ার স্ত্রী রোজিনা খাতুন (২০), উসমান গনি স্ত্রী সিমন খাতুন (৪৮) ও তোফাজ্জেল হোসেনর স্ত্রী রওশন আরা খাতুন, হাড়ভাঙ্গা গ্রামের মৃত কলিম উদ্দীনের ছেলে আকরাম আলী (৬০) ও তার স্ত্রী শাহানারা খাতুন (৪৫) এবং আড়পাড়া গ্রামের রাহাজ উদ্দীনের স্ত্রী তহমিন বেগম (৪০)।

অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুরু মাংস খাওয়া কিংবা নাড়াচাড়া করার জন্য এটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার আনোয়ারুল ইসলাম। গত কয়েকদিন ধরে এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আরও নয়জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে হাসপাতালসূত্রে জানা গেছে। আক্রান্ত পশু থেকে অ্যানথ্রাক্স মানবদেহে ছড়িয়েছে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শশ্নাঙ্ক কুমার জানিয়েছেন, জেনেশুনেই অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু জবাই করে মাংস খাচ্ছেন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। তবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে প্রতিষেধক টিকা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ অঞ্চলের ব্যাপকভাবে গরু, ছাগল ও মোষ পালন করা হচ্ছে। একেকটির দামও বেশ। তাই কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা জেনেশুনেই তা জবাই করে মাংস বিক্রির পাশাপাশি মালিকেরাও খাচ্ছেন। তাদের দাবি অ্যানথ্রাক্স জীবাণু থেকে শরীরে ক্ষত ঘা হবে জেনেও তারা এটি করছেন। কারণ হিসেবে তারা জানালেন, অনেকেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পশু পালন করছেন। অর্থ বিনিয়োগ করায় পশু মারা যাওয়া কিংবা অসুস্থতাজনিত কারণে মালিকেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ ক্ষতির কিছুটা পোষাতেই তারা আক্রান্ত পশু জবাই করছেন। আক্রান্ত মানুষের এ কথার সাথে একমত পোষণ করে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও বলেছেন, বামন্দী বাজারের বড় ধরনের পশুহাট বসে। এতে বামন্দী, কাজিপুর, তেঁতুলবাড়িয়া ও মটমুড়া ইউনিয়নসহ আশেপাশের অনেকেই পশু বেচাকেনাসহ বিভিন্ন কাজের সাথে সম্পৃক্ত। তাছাড়া এ অঞ্চলে রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। তাই এ এলাকাগুলো অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত প্রবণ এলাকা হিসেবে অনেকটাই চিহ্নিত। তাছাড়া ৪০-৬০ বছর মাটিতে অ্যানথ্রাক্স জীবাণু বেঁচে থাকতে পারে। এতে পশুপালন কার্যক্রম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই এ অঞ্চলের পশু পালনের এ ধারা বজায় রাখতে পশু পালনকারী ও ব্যবসায়ীদের আরও সজাগ হওয়ার পরামর্শ দিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মকবুল হোসেন জানিয়েছেন, ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই আক্রান্ত এলাকার পাশাপাশি গোটা এলাকায় প্রতিষেধক টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। চলছে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *