দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের নেই কোনো পরিবহন : নিরাপত্তা বিধানে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে

দর্শনা অফিস: চুয়াডাঙ্গা জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্তশহর হিসেবে দর্শনার রয়েছে বেশ পরিচিতি। সীমান্তবর্তী এ শহরে রয়েছে দেশের একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান কেরুজ চিনিকল কমপে¬ক্স, কাস্টমস, আন্তর্জাতিক রেলস্টেশন, দর্শনা হল্টস্টেশন, ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, সরকারি কলেজ, কয়েকটি ব্যাংক, একাধিক এনজিও সংস্থা, খুচরা ও পাইকারি মালামাল বিক্রির মোকাম দর্শনা রেলবাজার, পুরাতন বাজারসহ সরকারি বে-সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একাধিক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ, পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, জেলা বিএনপির অন্যমত নেতা হাজি মোখলেসুর রহমান তরফদার টিপুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতৃবৃন্দের বাড়ি এ শহরে। এ শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার প্রতি বছর শ’ শ’ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে। সে তুলনায় চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন দেখা যায়নি। জনগুরুত্বপূর্ণ দর্শনা পৌর শহর বছর কয়েক আগে ২য় শ্রেণিতে উন্নিত হয়েছে। প্রায় অর্ধশত পাড়া মহল্লার অত্যান্ত ঘন বসতির দর্শনা পৌর শহর। দর্শনা পৌর শহরের মানুষের জান মালের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র।
জানা গেছে, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সম্প্রতি সময়ে ইনচার্জ পদে এসআই’র পরিবর্তে ইন্সেপেক্টর দেয়া হয়েছে। ফলে একজন ইন্সেপেক্টর, ২ জন সাব-ইন্সেপেক্টর, ৪ জন অ্যাসিস্টান্ড সাব ইন্সেপেক্টরসহ কমপক্ষে ১৬-১৭ জন কনস্টেবল থাকা জরুরি। বর্তমানে এ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে রয়েছে একজন ইন্সেপেক্টর, ১ জন সাব-ইন্সেপেক্টর, মহিলা সহ ৩ জন অ্যাসিস্টান্ড সাব-ইন্সেপেক্টর ও মাত্র ৬ জন কনস্টেবল। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর দর্শনা-কার্পাসডাঙ্গা সড়কের আলোচিত গোপালখালী ব্রিজের নিকট অফিসার বিহীন কমপক্ষে ৩ জন কনস্টোবলকে থাকতে হয় ছিনতাই ও ডাকাতি ঠেকাতে। টহলে থাকতে হয় ২ জন ও সর্বক্ষনিক পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সেন্টি ডিউটিতে ১জন কনস্টেবল থাকতে হয়। জরুরী কোনো অভিযানের ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছুতে বিঘœ ঘটে। দর্শনা মাইক্রোস্ট্যান্ড, আলমসাধু ও করিমন তেলের বিনিময়ে নিয়েই অভিযানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কোনো কোনো সময় নির্ধারিত সময় ওই সকল পরিবহন না পাওয়ায় অনেকটাই সমস্যার সৃস্টি হচ্ছে। প্রতিরাতে কমপক্ষে ৩টি টহল পরিবহনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে মাসে মাত্র ২শ’ লিটার ডিজেল বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। নিজস্ব পরিবহন না থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছুনোর আগেই অনেক সময় অপরাধীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে পারে নির্বিঘ্নে। জনগুরুত্বপূর্ণ দর্শনা পৌর শহরের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে পুলিশি জনবল বৃদ্ধি ও দ্রুতগতিতে চলাচলের যোগ্য যানবাহনের জন্য চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করেছে দর্শনাবাসী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *