ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন

যার মাথা থেকে পা পর্যন্ত নকল উড়ে যাওয়ার ভয় তারই বেশি

 

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মাথার চুল উড়ে যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যের জবাবে বলেছেন, আন্দোলনের বাতাসে নাকি আমার সব চুল উড়ে যাবে। আমি ঘোমটা দিয়ে থাকি। তাই চুল দেখাতে পারছি না। কিন্তু আমার মাথায় কোনো পরচুলা নেই। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যার মাথা থেকে পা পর্যন্ত নকল, চুল উড়ে যাওয়ার ভয় তারই। আমার তো সেই ভয় নেই।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে আবারো নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এক স্মৃতিবিজড়িত স্থান।

গতকাল শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাংলার মানুষকে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিলো গতকাল জুম্মার নামাজের পর থেকেই মানুষের স্রোত এ উদ্যানের দিকে আসতে থাকে। বাসে, পায়ে হেঁটে, ব্যানার, ফেস্টুন হাতে স্লোগান দিতে দিতে মানুষের মিছিল এসে মিলিত হতে থাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সবুজ চত্বরে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকরের দাবিতে মুখরিত খণ্ড খণ্ড মিছিল ঢাকার আকাশ বাতাসকে প্রকম্পিত করে তোলে।

বিকালে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আজিজ। বক্তব্য রাখেন সংসদ উপনেতা প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, কামাল আহমেদ মজুমদার, একেএম রহমতুল্লাহ, ফজলে নূর তাপস, হাবিবুর রহমান মোল্লা, আসলামুল হক, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহানারা বেগম, ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, মুকুল চৌধুরী, হাজী মোহাম্মদ সেলিম, বজলুর রহমান প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৪ মে খালেদা জিয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সরকার পালানোর পথ পাবে না। আমার প্রশ্ন, সেই আল্টিমেটাম কোথায় গেলো? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণে কাজ করে। কিন্তু বিএনপি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ ছাড়া জনগণকে কিছুই দিতে পারেনি। খাম্বা লিমিটেড ও ডান্ডি ডাইঙের নামে তারা ব্যাংক থেকে ৯৮০ কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। আমেরিকার ফেডারেল কোর্ট ও সিঙ্গাপুরে তাদের পাচার করা অর্থ ধরা পড়েছে। সিঙ্গাপুরে তদবির করেও বেগম খালেদা জিয়া কিছু করতে পারেননি। আমরা সেই অর্থ ফেরত এনেছি। এর কী জবাব দেবেন বিরোধী দলীয় নেত্রী? বিএনপি নেত্রীর নির্দেশে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজত বায়তুল মোকাররমে শ শ কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদে আগুন দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমাকে ও রেহানাকে দেশে ফিরতে বাধা দেয়া হচ্ছিলো। দেশে ফেরার পর আমাকে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বাড়ির সামনে রাস্তায় বসে মিলাদ পড়েছিলাম। জিয়াউর রহমান যতোদিন ছিলেন আমি ওই বাড়িতে ঢুকতে পারিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলশানে দেড় বিঘার ওপরে বাড়ি পাওয়া সত্ত্বেও খালেদা জিয়া সেনানিবাসের বাড়ি দখল করে রেখেছিলেন। এরশাদকে স্বামী হত্যাকারী বলে গুলিস্তানে ঘোষণা দেয়ার পর তার হাত থেকে গুলশানের ওই বাড়ি নিয়েছিলেন। সেনানিবাসের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় খালেদা জিয়া যেভাবে কেঁদেছিলেন, স্বামীর মৃত্যুতেও তিনি সেভাবে কাঁদেননি। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরো বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পরও খালেদা জিয়া গুলশানে খুঁজে খুঁজে সবচেয়ে ভালো প্লটের ওপরে বাড়িটি নিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থেকে খালেদা জিয়ার মতো ভোট চুরির কৌশল আমরা কখনো করিনি। ৯৬’র ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনী রশীদ ও হুদাকে সংসদ সদস্য করেছিলেন। খুনিদের সাথে তার কী সম্পর্ক? ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন না হলেও ’৯৩ সাল থেকে তিনি ওই দিন জন্মদিন পালন শুরু করেন। কিন্তু কেন? আমাকে কষ্ট দেয়ার জন্য? প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী হেফাজতকে শাপলা চত্বরে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারা হাজার হাজার মুসল্লি মারার অভিযোগ করলো। আমরা তালিকা চাইলাম, কিন্তু তা দিতে ব্যর্থ হলো। আড়াই হাজার থেকে এখন তারা ৬১ জনে নেমে এসেছে। এ ৬১ জনের তালিকাও ভুয়া। তাদের মৃতের তালিকার তিনজনকে জীবিত পাওয়া গেছে। আন্দোলনের নামে তারা সাধারণ মানুষ, পুলিশ, বিজিবি ও সেনা সদস্য হত্যা করেছে।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত রাখতে আরেকবার নৌকা প্রতীকে ভোট দিন। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলো। আগামীতে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য বাঙালিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যদি হয় তাহলে আওয়ামী লীগ আবারো একাত্তরের মত রুখে দাঁড়াবে।

আমির হোসেন আমু বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তান বা আফগানিস্তানে পরিণত হতে চায় না। তাই একাত্তরের পরাজিত শক্তি বিএনপি-জামায়াত যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন – বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া খালি আল্টিমেটাম দেন। কিন্তু আন্দোলন হয় না। দেশের মানুষ যে তার কথায় কান দেয় না এটাই তার প্রমাণ। ড. ইউনূসের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি কে যে আপনার সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। ১/১১ এর পর রাজনীতিবিদ হওয়ার খায়েশ হয়েছিল। এখন আবার রাজনীতিবিদ বনেছেন। যাদের মানুষ ভোট দেয় না তাদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে কথা বলেন। এসব কথায় মানুষ কান দেয় না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। এর বাইরে আপনাদের চক্রান্ত কোন কাজে আসবে না।

মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এক অন্ধকার সময় থেকে আলোর মুখ দেখিয়েছেন। সংকটময় অবস্থা থেকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এ ধারা অব্যাহত রাখতে দেশের মানুষ আবারো আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a comment

Your email address will not be published.