চুয়াডাঙ্গা জেলা আ.লীগের আয়োজনে দর্শনায় কর্মীসমাবেশে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু

0
35

স্বাধীনতা পক্ষের শক্তির কাছে পরাস্ত হয়েছে স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধী অপশক্তি

 

দর্শনা অফিস: চুয়াডাঙ্গা জেলা আ.লীগের আয়োজনে দর্শনায় কর্মীসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কেরুজ ক্লাবমাঠে অনুষ্ঠিত কর্মীসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির কাছে পরাস্ত হয়েছে স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধী অপশক্তি। তিনি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলার স্থপতি, বাঙালি জাতির মুক্তিদাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সমৃদ্ধশীল সোনার বাংলাদেশের। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টা এক কালো রাতে এ দেশের স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে তার সে সোনালি স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। রচনা করে এক কালো অধ্যায়ের। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন বিগত সরকারের রেখে যাওয়া জঞ্জাল সরিয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে সমৃদ্ধির পথে, ঠিক তখনই ব্যক্তি চরিতার্থ করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। আমরা সকল বাধা শক্ত হাতে মোকাবেলা করে উন্নয়নে ধারা অব্যাহত রেখেছি।

তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশের মানুষকে ঠকিয়ে নিজেদের আখের গুছাতে সময় কেটেছে। তাই জনগণ তাদের উচিত জবাব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন দেশে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জামায়াত-শিবিরকে সাথে নিয়ে দেশের উন্নয়নকে নস্যাৎ করতে অহেতুক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। নিরীহ মানুষ হত্যা, গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েমের বৃথা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে পাওয়া আজকের স্বাধীনতা ও জাতীয় পতাকা খামচে ধরতে তাদের বিষাক্ত নখ বিস্তার করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপ ও স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রতিরোধের মুখে বারবার তাদের সকল অপচেষ্টা ভেস্তে গেছে। দেশের মানুষ এখন শান্তিতে আছে। শান্তিপ্রিয় বাঙালি শান্তিতে থাকতে চায় বলেই আবারো আ.লীগকে ক্ষমতার সিংহাসনে বসিয়েছে। তাই আসুন দেশ, জাতি তথা সমাজের উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে প্রত্যয়ী হই।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে হুইপ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আ.লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, অহেতুক অরাজকতা সৃষ্টি করে চুয়াডাঙ্গার শান্ত পরিবেশকে যারা অশান্ত করার অপচেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে আমি তাদের উদ্দেশে বলছি, অশান্তি সৃষ্টিকারীদের আমরা রাজনীতি ও বিশ্বাস দিয়ে মোকাবেলা করবো। পরিবেশ শান্ত রাখতে বাধ্য হবো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। এদেশ যাদের ভালো লাগছে না, পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখে এদেশে তাদের থাকার অধিকার নেই। তাদের ঠিকানা পাকিস্তানে। এদেশের পবিত্র মাটিকে আর কলুষিত করবেন না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সদস্য জেলা আ.লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হাজি আলী আজগার টগর বলেন, আ.লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশের মতো এ এলাকাতেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আর উন্নয়ন হয়েছে বলেই বিএনপি-জামায়াতের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে মানুষ। আ.লীগের দৃঢ় নেতৃত্ব আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশ আ.লীগের ঘাটিতে পরিণত হয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ সন্তুষ্ট। তা বুঝেই বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে আসেনি। তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই অহেতুক অরাজকতা সৃষ্টি করে চলেছে। আমরা তাদের অরাজকতাকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করতে সর্বদা প্রস্তুত।

জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, দেশের মানুষ বিগত সরকারের শাসনামলে প্রতিটি মূহূর্তে আতঙ্ক ও ভয়ে কাটিয়েছে। আ.লীগ সরকারের শাসনামলে সুখ ও শান্তিতে দিন কাটাতে পেরে আবারো তাদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এ সরকারকেই নির্বাচিত করেছে। তাই অযথা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি পাঁয়তারা বন্ধ না করলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে। কর্মীসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আ.লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক খুস্তার জামিল, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আ. মালেক, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জোহা, ফেরদৌস ওয়ারা সুন্না, মাসুদুজ্জামান লিটু, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তূজা, দামুড়হুদা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মঞ্জু, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া আলম, দর্শনা পৌর আ.লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান, আওরঙ্গজেব টিপু, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা লীগ নেত্রী কোহিনুর বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন, মোশাররফ হোসেন, সোহরাব হোসেন, অ্যাড. আলমগীর হোসেন পিপি, অ্যাড. নুরুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাজি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। জেলা আ.লীগ নেতা শওকত আলীর উপস্থাপনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা যুবলীগ নেতা আরেফিন আলম রঞ্জু, আ. কাদের, আসমান, দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগ নেতা শফিউল কবির ইউসুফ, অ্যাড. আবু তালেব, সেলিম উদ্দিন বগা, আ. হান্নান ছোট, অ্যাড. আজিজুর রহমান বাবু, ইকবাল হোসেন, শেখ আসলাম আলী তোতা, জয়নাল আবেদীন নফর, মামুন শাহ, সাইফুল ইসলাম হুকুম, সোলায়মান কবির, আশরাফুল আলম বাবু, ফারুক হোসেন, আব্দুস সালাম ভুট্টো, ছাত্রলীগ নেতা জামিরুল ইসলাম, সাজু আহম্মেদ রিংকু, রফিকুল ইসলাম ববি, নাহিদ পারভেজ, মনির সরদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং বাইবেল ও গীতা পাঠ করা হয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, এমপি আলী আজগার টগর, আজাদুল ইসলাম আজাদ, আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম, মোজাফফর হোসেন, সিরাজ, মিজানুর মাস্টার, যুবলীগ নেতা খুশি, মিলন, রতন, দামুড়হুদা ও দর্শনা আ.লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও মহিলা লীগের নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here