চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদকের বিবৃতির পাল্টা বিবৃতি সাধারণ সম্পাদকের

 

পরক্ষিত নেতাকর্মরা জানেন আমি ভাড়াটিয়াখোলস পাল্টানো নেতা কিনা

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক খুস্তার জামিলের বিবৃতির প্রেক্ষিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পত্রিকায় প্রকাশিত জেলা আ.লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক খুস্তার জামিলের বিবৃতির প্রতি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যাতে আমাকে ভাড়াটিয়া এবং খোলস পাল্টানো নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও আমি তাকে রাজাকার বলে বা তার প্রয়াত পিতাকেও ৭১’র শান্তি কমিটির সেক্রেটারি বলে কোনো বক্তব্য দিইনি। তবে ওই সভায় বিষয়টি কারো কারো বক্তব্যে এসেছিলো যা আমিও শুনেছি।

আজাদুল ইসলাম আজাদ তার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘রাজাকার বক্তব্য আমার না হলেও আমাকেই যখন আক্রমণ করে দায়ী করেছে এবং নানাভাবে আক্রমণ করে অভিযুক্ত করেছে তখন আমারও কিছু কথা বলা প্রয়োজন। জনাব খুস্তার জামিল আমি আপনাদের তুলনায় এখন গরিব হতে পারি। তাই বলে মাত্র ৫ হাজার টাকার ভাড়াটিয়া নেতা বানালে কী করে হবে? জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক যদি ৫ হাজার টাকায় ভাড়া খাটে তাহলে ত্রাণ সম্পাদকের ভাড়া কতো? ভাড়ায় যদি খেটে থাকি তাতো অনেক বেশি হওয়ার কথা। টগর সাহেবের কাছেই জেনে নিয়ে সঠিক তথ্য দিলে জেলাবাসী আমাকে অন্তত অতো নিচু মনের ভাববেনা। তবে আপনার জানার আরো সহজ উপায় আছে আপনিতো বর্তমানে হুইপ মহোদয়ের সব চাইতে বিশ্বস্ত ও কাছের মানুষ এবং মেয়র সাহেবেরও পরম আত্মীয়। তাদের কাছ থেকেও আমার সঠিক ভাড়াটা জেনে নিতে পারেন। কারণ হুইপ সাহেবের সাথে দীর্ঘ ৪২/৪৪ বছর একাগ্রচিত্তে এই দলটির জন্য কাজ করেছি। নিশ্চয় বিনা ভাড়ায় খাটিনি। আপনার ভগ্নিপতি মেয়র সাহেব যখন নির্বাচন করে তখনোতো কমপক্ষে ১০ দিন চুয়াডাঙ্গায় অবস্থান করে বাড়িবাড়ি ভোট চেয়ে বেড়িয়েছি। উনিও নিশ্চয় ভাড়া মিটিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য নিয়ে আমার প্রকৃত ভাড়া কতো জেনে নিলে ভালো হয়। দয়া করে অতো কম লিখে একজন ডেলি লেবারের নিচে নামাবেন না। তবে জেলাবাসী জানে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাও জানেন আমি ভাড়াটিয়া অথবা খোলস পাল্টানো নেতা কি-না। ২০০৬ সালের ওয়ান ইলেভেনের আগে টগর সাহেব মনোনয়ন পেলে শুধু আমি কেন আপনাদের হালে অতিবেশি আপন হওয়া এই এলাকার অনেক নেতাই বিরোধিতা করেছিলেন এটা ঠিক। তবে এটাও ঠিক সেসময় আপনিসহ চুয়াডাঙ্গার অনেক নেতাই কী এক অজানা কারণে অনেক বেশি খুশি হয়েছিলেন। যদিও আজ আবার টগর সাহেব চুয়াডাঙ্গা-২ এ নির্বাচিত সংসদ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আপনারা তারই নির্বাচনী এলাকায় প্রকাশ্য সভায় তার বিরোধিতা করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। জানিনা এতে খোলস পাল্টানো হয় কি-না। সে সময়ে রাজনীতি এবং দলের স্বার্থেই আমি একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মির্জা রাজা ভাইকে সমর্থন করেছিলাম। তার পক্ষে নেত্রীর কাছে লিখিত দিয়েছি। কারণ তখনো টগর সাহেব পরীক্ষিত কোনো নেতা হননি। কিন্তু ২০০৮ সালে মাননীয় নেত্রী যখন আবার তাকেই মনোনয়ন দিয়েছেন তা মেনেই দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। অথচ এখন যিনি আপনাদের খুবই আপন হয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। আপনি লিখেছেন, টগর সাহেবের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ লোক লেলিয়ে দিয়েছি, বলতে পারেন সেই অস্ত্রধারী কে? বলতে পারেন আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনো অস্ত্রধারী কিংবা মাস্তান নিয়ে চলার ইতিহাস আছে কি-না? খোলস পাল্টাইনি কোনোদিন। আমি ছেলুন মিয়া, রাজা মিয়া কিংবা টগর মিয়া কারোরই নই। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সন্তান, তারই অনুসারী। বর্তমানে শেখ হাসিনারও কর্মী। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন নিখাঁদ আ.লীগকর্মী এবং বাঙালি মুক্তিযোদ্ধা। লিখেছেন, আপনি নাকি ৪০ বছর যাবত আ.লীগ করছেন। জানিনা ভাই। ৪০ বছর আগে আমি জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলাম। তারও আগে ছাত্রলীগ কর্মী ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধও করেছি। ৭৯ সালে জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। কোথাও কোনো দিন আপনাকেতো দলের কোনো পর্যায়ের কর্মী হিসেবেআমার চোখে পড়েনি। জানিনা অন্যরা সাথী হিসেবে পেয়েছে কি-না? কারো বিশেষ ইচ্ছায় বা দয়ায় সাধারণ সম্পাদক হয়েছি লিখেছেন, আমিতো এতোদিন জানি, দলের বেশির ভাগ কাউন্সিলরতো বটেই জেলার অধিকাংশ নেতাকর্মী সেদিন আমাকে ওই পদে চেয়েছিলো। এমনকি মাননীয় সভানেত্রীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও তাই চেয়েছিলো বলে জানি। তারপরও বলছি, কারো কারো দয়ার দান নিয়ে বেঁচে থাকাটাও বড়ই কঠিন। নির্বাচনে সুলতান রাজার বিরোধিতা করে বহিষ্কৃত হয়েছিলাম বলে লিখেছেন, হ্যাঁ আপনাদের নতুন আপনজনেরা সেদিনতো মির্জা রাজার সাথে থেকে এভাবেই মিথ্যা অভিযোগ এনেছিলো। প্রমাণিত হয়নি বলেইতো দলও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিলো। আমি এলাকা থেকে কোনোদিনই বিতাড়িত ছিলাম না ভাই। ওই বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে এই এলাকার অসংখ্য নেতাকর্মী প্রতিবাদ করতে ঢাকা পর্যন্ত ছুটে গেছে। যারা সেদিন মিথ্যা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলো আমি তাদের সকলকে গভীর শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু আমার আশঙ্কা হয়, ক্ষমতার পালাবদল হলে আপনাদের পরিণতি কী হবে? উপজেলা নির্বাচনে চারদিকে জয়জয়কার অথচ আমার কারণে ফেল করেছি লিখেছেন, জনগণ জানে আমাকে ফেল করানোর পেছনে কারা ষড়যন্ত্র করেছে। জেলা সভাপতিসহ আপনারা জেলার এতো বড়বড় নেতারা কেউতো ভোট করলেন না। বরং এই এলাকার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য যেসব নেতা বিরোধিতা করেছেন তারা এখন আপনাদের খুব আপনজন। ষড়যন্ত্রের কারণে হেরেছি কি একা আমি না আ.লীগ? যারা জামায়াতকে নির্বাচনে সহযোগিতা করলো তারা আজ পুরস্কৃত হলো। সভাপতি সাহেব যেদিন দল থেকে অব্যাহতি নিয়ে দুঃখ-ক্ষোভে ভারত চলে যান সেদিন কোথায় ছিলেন আপনি বা দামুড়হুদা-জীবননগরের আজকের আপনাদের মিত্ররা। আপনার মতো বড়বড় নেতা থাকতে আমাকে কেন সব দায়িত্ব নিতে হয়েছিলো। হঠাত করেই কেউ নেতা হয়ে যায়নি। আমাদের মতো অনেক হতভাগাদের বহু ত্যাগ, শ্রম, মেধা কিছু হলেও ভূমিকা রেখেছে। চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গার এমন অনেক নেতাকর্মী যারা আজ উপেক্ষিত তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়। আপনারা যারা আজ তাকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করছেন তার পতন কিংবা দলের অপূরণীয় ক্ষতির দায় তাদেরকেই নিতে হবে। যে ক্ষতি আমি কখনোই কামনা করিনি।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *