চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি : কৃষকদের অভিযোগ কৃষি বিভাগের জরিপ সঠিক নয় সঠিক তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের দাবি

 

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কৃষি বিভাগের রিপোর্টে সঠিক তথ্য উঠে না আসায় কৃষকরা হতাশ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার জাফরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে মাঠে কৃষকদের আলুর ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা কৃষি বিভাগের নজরে পড়েনি। অভিযোগ উঠেছে, মাঠ দেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ সঠিকভাবে জরিপ ও পরিদর্শন না করে রিপোর্ট দাখিল করায় বেশ কিছু ফসলের নাম বাদ পড়েছে। সঠিক তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের দাবি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী গত ৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ বৃষ্টিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গায় ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। বৃষ্টিতে কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ১০টি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী দুর্যোগে আক্রান্ত ফসলি জমির পরিমাণ বোরো ধান ৭৬২ হেক্টর, গম ৯০১ হেক্টর, ভুট্টা ১৫৮৩ হেক্টর, মসুরি ১৭৩৬ হেক্টর, পেঁয়াজ ৪৫ হেক্টর, রসুন ৬ হেক্টর, কলা ৫০ হেক্টর, পান ৪ হেক্টর, সবজি ৩৩ হেক্টর ও তামাক ৬৫৫ হেক্টর। এসব ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানিয়ে যশোর ও ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়। সেসব ফসলের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি সেগুলো হলো, আলু, আখ, আম ও আদাসহ বিভিন্ন ফসল।

সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া ও জাফরপুর গ্রামের কৃষক শরীফ উদ্দিন, আহসান কবীর, সেলিম, রাজু, কামাল ও তোফাজ্জেলসহ আরো কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে তারা কখনো দেখেননি এবং তার নামও জানেন না। কৃষকরা দাবি করেন তাদের প্রত্যেকেই দু বিঘা থেকে ২১ বিঘা জমিতে আলুচাষ করেছেন। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে গত রোববার থেকে আলু গাছে লেট ব্রাইট রোগে আত্রান্ত হয়ে পড়েছে। পরামর্শের জন্য কোনো কৃষি কর্মকর্তাকে তাদের কাছে না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ওই এলাকাতেই কয়েকশত বিঘা জমিতে আলুচাষ রয়েছে বলে কৃষকরা দাবি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ঠাকুরপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তোফায়েল আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলা কৃষি অফিসে গেলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মোবাইলেফোনে যোগাযোগ করা হলে তোফায়েল আহমেদ জানান, প্রতিমাসে ২ বার করে এলাকা ভিজিট করি। গাড়াবাড়িয়া গ্রামে ক্লাব গঠন করা হয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে ক্ষতির কথা ভাবাই যায় না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, ঠাকুরপুর ব্লকের ৪৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে ২০ হেক্টরের আলু  বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের মাসরুর জানান, ঘন কুয়াশা দিনে গরম ও রাতে যদি ঠাণ্ডা পড়ে তাহলে আলুতে আরলি ব্লাইট ও লেট ব্লাইট রোগ হয়। কৃষকরা সবসময়ই অভিযোগ করে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে যায় না, অভিযোগটি সঠিক নয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নির্মল কুমার দে জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঠে যায় না অভিযোগটি তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গা জেলায় অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় বিভিন্ন মাঠ ডুবে যায় এবং বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published.