ফাদারকে জিম্মি করে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা সোনার গয়না ও মোবাইলফোনসহ মালামাল লুট করে পালানোর সময় চিৎকার : গ্রামবাসীর প্রতিরোধ
মুজিবনগর প্রতিনিধি: যশোরের ঝিকরগাছার শিমুলিয়ায় গির্জায় ডাকাতিকালে গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত ও অপর তিনজন আহত হয়েছে। সোমবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লালু মিয়া মেহেরপুর জেলার শীর্ষ ডাকাত হিসেবে পরিচিত। সে মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আকছেদ আলীর ছেলে। আহত অবস্থায় আটক মনিরুল ও আমিরুলের বাড়ি ভবানীপুর গ্রামে এবং সুজন হোসেনের বাড়ি মাদারিপুর জেলার দক্ষিণ কামারকান্দি গ্রামে।
যশোরের ঝিকরগাছা থানার ওসি মোল্লা খবির আহমেদ জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ১০/১২ জনের একদল ডাকাত শিমুলিয়া গ্রামের গির্জায় হানা দেয়। ডাকাতরা ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, সোনার গয়না ও মোবাইলফোনসহ মালামাল লুট করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় গির্জার লোকজনের চিৎকারে গ্রামবাসী সংগঠিত হয়ে ৪ ডাকাতকে ধরে ফেলে। পরে তাদের গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই লালু ডাকাতের মৃত্যু হয়। আহত হয় বাকি ৩ জন। খবর পেয়ে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে। প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত ৩ জন সেখানে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় বলে জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসক।
ওসি আরও জানান, ডাকাতি হওয়া টাকার মধ্যে ৪২ হাজার টাকা আহত তিনজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। গতকালই ঝিকরগাছা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলার আসামি হিসেবে আহত তিনজকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানান ওসি।
এদিকে নিহত লালুর পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না পুলিশ। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদের ভিত্তিতে লালুর আত্মীয়স্বজনরা সেখানে ছুটে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের লোকজন গ্রহণ করে। গতরাত বারোটার দিকে যশোর থেকে লাশ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা করেন লালুর নিকটাত্মীয় শিবপুর গ্রামের এরশাদ আলীসহ কয়েকজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির সাথে জড়িত লালু ও ভবানীপুর গ্রামের ইংরেজ ওরফে ইংরেজ ডাকাতের ছেলে যশোরে আটক মনিরুল ও আমিরুল। মেহেরপুর জেলার শীর্ষ ডাকাত হিসেবে লালুর নাম রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার কাছে। লালুর নেতৃত্বে আমিরুল ও মনিরুল ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকার আরো কিছু ডাকাত সদস্য রয়েছে। সংঘবদ্ধ ডাকাত দলটি পেশাদার ডাকাত হিসেবে কাজ করে। ডাকাতির স্বার্থে তারা ফরিদপুর জেলাসহ বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে। যশোর জেনারেল হাসপাতালে গতকাল সকালে চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলে মনিরুল ও আমিরুল নিজেদেরকে ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে পিতার নাম ঠিকঠাক বলেছে। লালুর লাশ আনতে গিয়ে মুজিবনগর এলাকার কয়েকজন মনিরুল ও আমিরুলের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করে।
এদিকে লালুর বিরুদ্ধে মুজিবনগর ও সদর থানায় চারটি মামলা রয়েছে বলে মুজিবনগর থানাসূত্র নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে চুরি, ডাকাতি, বোমাবাজি ও মাদকের ঘটনা রয়েছে। এসব মামলায় সে কয়েক দফায় গ্রেফতারের পর হাজতমুক্ত হয়ে আবারো পুরনো পেশায় জড়িয়ে পড়ে। ডাকাতির স্বার্থে মাসের বেশিরভাগ সময় সে এলাকার বাইরে অবস্থান করে থাকে।