শিক্ষক যদি হারায় আস্থা, তাহলে কি থাকে বাকি?

 

পঁচনটা কি সমাজের অস্তিমজ্জায় পৌঁছে গেলো? শিক্ষক কর্তৃক অনাথ ছাত্রী ধর্ষণ কি তারই বহির্প্রকাশ। যে শিক্ষক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরম শ্রদ্ধার, পিতৃতুল্য তাকে সন্তানতুল্য ছাত্রীরা কখন গণপিটুনি দেয়? অবশ্যই প্রকৃত শিক্ষক সব সময়ই শ্রদ্ধেয়। শুধু শিক্ষক সমাজে নয়, সর্বক্ষেত্রেই মেধা মননে ভেজালরাই ধরাকে সরাজ্ঞান করে ডেকে আনছেন সর্বনাশ। যার বিরূপ প্রভাবে সমাজ পিছিয়ে পড়ছে। গুমরে কাঁদছে সভ্যতা।

শিক্ষক যদি শিক্ষার্থী অভিভাবকদের আস্থা হারায় তাহলে জাতির অগ্রযাত্রা তথা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই যে মুখ থুবড়ে পড়বে তা বলাই বাহুল্য। শুধু চুয়াডাঙ্গার ঝিনুক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আহাদ আলী নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধেও ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগ উত্থাপন হচ্ছে। গঠিত তদন্ত দল অভিযোগের সত্যতাও পাচ্ছে। এরপরও কি বলা যায়? অভিযুক্ত চক্রান্তের শিকার? অবশ্যই না। যদিও সঙ্গত প্রশ্ন, সম্প্রতি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগের মাত্রা বেড়ে গেলো কেনো? হয় শিক্ষক সমাজের নৈতিকতার স্খলন, নয় শিক্ষক নিয়োগে ত্রুটি। যদিও এ নিয়ে বিতর্ক আছে, থাকাই স্বাভাবিক।

সুন্দর সমাজ গঠনে শিক্ষকরাই আদর্শ। সেই আদর্শে কালির আঁচড়। এরপরও কি বলা যায়, আমাদের সমাজ সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে? যদিও দু-একজন শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকাণ্ড দিয়ে গোটা শিক্ষক সমাজকে বিচার করা যায় না। তারপরও একজন শিক্ষকের কারণে সকল শিক্ষককেই যে ছাত্রী-অভিভাকদের সন্দেহের কারণ হতে হয় তা নিশ্চয় নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না। শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের বিষয়টি খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। সমস্যাটা শুধু সামাজিক নয়, রাষ্ট্রীয়ও বটে। শিক্ষকতাকে চাকরি হিসবে দেখলে হয় না। চাকরি নয়ও। শিক্ষকতা মহান দয়িত্ব, মানুষ গড়ার কারিগর।

ছাত্রী ধর্ষণের দায়ে পরিমলের শাস্তি হয়েছে। সেই শাস্তি আহাদ আলীর মতো শিক্ষককে সতর্ক করতে পারেনি। সে কারণেই আইনে শাস্তির মাত্রা আরো বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন করে ভেবে দেখার যেমন প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি হয়, তেমনই শিক্ষকের নৈতিকতা স্খলনরোধে করণীয় নির্ধারণে বাস্তবমুখি পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রকৃত মেধার ভিত্তিতে তথা সত্যিকার যোগ্যকেই নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার।

Leave a comment