দামুড়হুদার নাটুদাহ ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু গ্রুপের সংঘর্ষ : আহত ৫

 দামুড়হুদা প্রতিনিধি: দামুড়হুদার নাটুদাহ ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে চন্দ্রবাস বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আজ শুক্রবার চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নবগঠিত নাটুদাহ ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠন করার কথা রয়েছে। কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে ঠাণ্ডা লড়াই অব্যাহত রয়েছে। দু পক্ষের মধ্যে একপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন নতিপোতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল্লাহ বিশ্বাস ও নাটুদাহ ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াচনবী ও পিন্টু। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে হামিদুল্লাহ বিশ্বাস-চেয়ারম্যান শফি গ্রুপ থেকে চারুলিয়া গ্রামের যুবলীগ নেতা সোহরাব হোসেন ও চন্দ্রবাস গ্রামের হামিদুল্লাহ বিশ্বাসের ভাইপো আনোয়ার এবং ইয়াচনবী-পিন্টু গ্রুপ থেকে ইয়াচনবীর ভাইপো তুরাপ ও যুবলীগ নেতা আজমত আলী এ ৪ জনের নাম মৌখিকভাবে মনোনীত করেছে। গতকাল রাত ১০টার দিকে চন্দ্রবাস বাজারে হামিদুল্লাহ বিশ্বাস তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে দলীয় আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন, ইয়াচবনী গ্রুপের যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা সবাই নেশাখোর। ওরা যেন কমিটিতে না আসতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। কথাটি ইয়াচবনী ও পিন্টু গ্রুপের লোকজন জানতে পেরে বিষয়টি পিন্টুকে জানায়।

এলাকা সূত্রে আরো জানা যায় পিন্টু ওই কথা শুনে বলেন, আমরাতো গাঁজা খাইনে আমরা একটু আধটু মদ খাই। অথচ আমাদের গাঁজাখোর বলবে এ কথা মেনে নেয়া যাবে না। একথা বলার পরপরই পিন্টু তার লোকজনকে সাথে নিয়ে চন্দ্রবাস বাজারে ছুটে আসেন এবং ওই বিষয় নিয়ে হামিদুল্লাহ বিশ্বাসের সাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শুরু হয় সংঘর্ষ। সংঘর্ষে ইয়াচনবী গ্রুপের চন্দ্রবাস গ্রামের মৃত ওয়াজেদ চেয়ারম্যানের ছেলে পিন্টু, তার ভাই বেবী ও প্রতিবেশী খোদাবক্স এবং চেয়ারম্যান শফি গ্রুপের হামিদুল্লাহ বিশ্বাসের ভাই রফিক ও ইসাহক হালসানার ছেলে আনোয়ারের ভাই মতি বিশ্বাস আহত হন। আহতদের মধ্যে পিন্টুর ভাই বেবীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করছে এলাকাবাসী।

Leave a comment