আদালতের আদেশের পর বিজ্ঞ বিচারকের হাত থেকেই নবজাতক গ্রহণ কলেন নিঃসন্তান দম্পতি

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা শিশু আদালতের বিজ্ঞ বিচারক নিজের হাতেই নবজাতককে তুলে দিলেন দীর্ঘদিনের নিঃসন্তান দম্পতি এসএম আব্দুল আলীম ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের কোলে। সন্তান পেয়ে আলীম যেমন আবেগে আপ্লুত তেমনই তার পাশে থাকা নিকটজনেরাও। অন্যের ফেলে যাওয়া সদ্যভূমিষ্ঠ সন্তান নিজের সন্তান হিসেবে পাওয়ার মধ্যদিয়ে যেন পূরণ হলো দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় এক কিশোরীকে ভর্তি করা হয়। ওইরাতেই এক কন্যাসন্তান প্রসব করে প্রসূতি। পরদিন শুক্রবার সন্তান ফেলে রেখে প্রসূতি তার সাথে থাকা দু’নারীকে সাথে নিয়ে সটকে পড়ে। হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের মেঝেতে বেওয়ারিশ হিসেবে পড়ে থাকা নবজাতককে কোলে তুলে নেন এক সেবিকা। বিষয়টি জানার পর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম কবির পুলিশসহ সমাজসেবা অধিদফতরের প্রবেশনাল অফিসারকে অবহিত করেন। পত্রিকায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হয়। কন্যা নবজাতককে প্রথম দিন এক স্টাফ নার্সের নিকট রাখা হলেও পরে রাখা হয় হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবী দু’নারীর কাছে। অপরদিকে নবজাতককে নিজের সন্তান হিসেবে পাওয়ার আশায় অনেকেই ভিড় জমাতে শুরু করে। এর মধ্যে নিঃসন্তান তিন দম্পতি লিখিতভাবে আবেদন করে। প্রবেশন অফিসার বিষয়টি আদালতে পেশ করেন। চুয়াডাঙ্গার শিশু আদালতের বিজ্ঞ বিচারক শাহানাজ সুলতানা আবেদন শুনানির জন্য গত বুধবার দিন ধার্য করেন। আবেদকদের পক্ষে আদালতে দীর্ঘ বক্তব্য পেশ করা হয়। শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক এসএম আব্দুল আলীমকে ওই নবজাতকের যাবতীয় দায়িত্ব দেয়ার রায় দেন। পরশু যখন নিঃসন্তান তিন দম্পতির পক্ষে সন্তান হিসেবে ওই বেওয়ারিশ নবজাতক পাওয়ার আকুতি উপস্থাপন করা হয় তখন আদালতেই শুধু নয় আদালত প্রাঙ্গণেই নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। দীর্ঘ শুনানির পর বিজ্ঞ বিচারক রায় প্রদান করেন। রায়ের পরদিন গতকাল হাসপাতাল থেকে নবজাতককে আব্দুল আলীমের হেফাজতে দেয়ার কথা থাকলেও তিনি আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের হাত থেকে নেয়ার ইচ্ছে ব্যক্ত করেন। ফলে নবজাতককে নেয়া হয় আদালতে। বিজ্ঞ বিচারক শাহানাজ সুলতানা নবজাতককে নিজের কোলে তুলে নেন। পরে আলীমের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের কোলে তুলে দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনিচ্ছাকৃতভাবে বিজ্ঞ বিচারকের নাম ভুলবশত শিরিন সুলতানা ছাপা হয়। প্রকৃত পক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১ম ও শিশু আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের নাম শাহানাজ সুলতানা। এ অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ক্ষামাপ্রার্থী।

Leave a comment