দর্শনা হল্টস্টেশনে মাদক ও চোরাকারবারীদের টোল আদায়ের ঘাট নিয়ে যতো ঝঞ্ঝাট
দর্শনা অফিস: দর্শনা হল্টস্টেশন মাদক ও চোরাকারবারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে হল্টস্টেশন। প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল বহন করছে চোরাকারবারীরা। পুলিশ প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে মাদক ও চোরাকারবারীদের কাছ থেকে টোল আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাঠে ছিলো। স্টেশন এলাকায় টোল আদায়ের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয় মাস ছয়েক আগে। দুই ভাগে বিভক্তি হয়ে অবস্থান নেয় কথিত দুই বাহিনী প্রধান। ফলে একের পর এক হামলা পাল্টা হামলায় চরম উত্তপ্ত হয়ে পরে স্টেশন চত্বরে। আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করছিলো স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বসবাসকারীরা। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি কোনো পক্ষকে। এক পর্যায়ের এক পক্ষের হুমকির মুখে মাঠ ছেড়ে পালাতে হয়েছে মাসুমকে। স্টেশন এলাকা দখলে নেয় মিনারুল, রানা, ফারুকসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গ। দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলা থেকে নিস্তার পাওয়া গেলেও মিনারুল বাহিনীর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায় চরম আকারে। ১ মাসের ব্যবধানে মিনারুল বাহিনীর হামলার শিকার হতে হয় দর্শনা পৌর কাউন্সিলর আ.লীগ নেতা হাসান খালেকুজ্জামান, সাংবাদিক চঞ্চল মেহমুদ ও জিআরপি কনস্টেবল জিয়াউল হুদাকে। পাশাপাশি পৃথকভাবে দায়ের করা হয় একাধিক মামলা। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে শুরু হয় দফায় দফায় পুলিশি অভিযান। উপায়ন্তর না পেয়ে মাঠ ছেড়ে গাঢাকা দিতে হয়েছে মিনারুল বাহিনীর সদস্যদের। ফলে টানা ১ মাস স্টেশন এলাকায় নেই কোনো বাহিনীর অঘোষিত রাজত্ব। মাদক ও চোরাকারবারীচক্র নিজেদের কৌশল অবলম্বন করেই তাদের ধান্দা অব্যাহত রেখেছে। ফজলুল করিম বদলি হওয়ার পর জিআরপি ফাঁড়িতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পান চুয়াডাঙ্গা জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মামুন। তিনি নিজের কৌশলে স্টেশন এলাকা মাদক ও চোরাচালান মুক্তকরণের প্রক্রিয়া চালালেও শেষ পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ বলেছেন, অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণেই তিনি সময় দিতে পারেন না দর্শনা হল্টস্টেশনে। এসআই মামুন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জিআরপি কনস্টেবলের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে জাল বিস্তার করেছেন বলেও জানিয়েছেন। দর্শনা হল্টস্টেশন কোনো চক্রের দখলে না থাকলেও কেউ কেউ প্রশাসনের কারো কারো নাম ভাঙিয়ে মাদক ও চোরাকারবারীচক্রের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। এ ধরনের অভিযোগের প্রমাণ পেলে তাকে গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পোড়াদহ জিআরপি থানার ওসি। বাহিনীশূন্য হল্টস্টেশন এলাকায় নতুন করে শুরু হয়েছে অধিপত্য বিস্তারের লড়াই। বেশ কিছুদিন ধরে এ লড়াই গোপনে চলছে। এবারও ঘাট দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে দুটি পক্ষ। দিন পনের ধরে চলছে ম্যানেজ প্রক্রিয়া। একেক সময় একেক চক্রের হোতার কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে ঘাট তাদের দখলে চলে আসার কথা। বিভিন্ন মহল থেকে সুপারিশ করানোর যেন হিড়িক পরে গেছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো মহল থেকে কাউকে বলা হয়েছে কি-না তাতে রয়েছে সন্দেহ। দর্শনার কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ যে এ ধরনের অপরাধের সুপারিশ করবেন না তা অনেকের কাছেই পরিষ্কার। তবুও হাল ছাড়েননি কেউ। চলছে দেনদরবার ও তদবির। শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাচ্ছে হল্টস্টেশন এলাকার আধিপত্য তা শুধু দেখার অপেক্ষ। নদী বা সাগর না থাকলেও দর্শনা হল্টস্টেশন এখন ঘাট নামেই পরিচিত পেয়েছে ব্যাপকভাবে। আসলে কোন বাহিনীর দখলে গেলো হল্টস্টেশন ঘাট তা কারো কাছে পরিষ্কার না হলেও শান্তিপ্রিয় মানুষ কোনো বাহিনীর আধিপত্য দেখতে চায় না। কোনো বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হতে চান না যাত্রীসাধারণ ও এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী বিজিবি, পুলিশ ও জিআরপি কর্তাদের কাছে দাবি তুলে বলেছে, দর্শনা হল্টস্টেশনে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে যারা দৌড়াচ্ছেন, তাদের চিহ্নিত করা হোক, সেই সাথে চিহ্নিত করা হোক চক্রের নেপথ্যের হোতাদের। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হলে হয়তো ঘাট নিয়ে ঝঞ্ঝাটের অবসান ঘটতে পারে।