স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন হবে। প্রতিটি জেলা পরিষদের অধিক্ষেত্রে সৃষ্টি করা হবে ১৫টি ইউনিট। ডিসিরা এই ইউনিট সৃষ্টির জন্য সীমানা পুন:নির্ধারণ করবেন। এ জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে শিগগির ডিসিদেরকে চিঠি পাঠানো হবে। প্রতিটি ইউনিটের জন্য একজন করে মোট ১৫ সদস্য নির্বাচিত হবেন। তিনটি ইউনিট নিয়ে একটি সংরক্ষিত নারী আসন থাকবে, যেখানে জনভোটে ৫ জন নির্বাচিত হবেন। জেলা পরিষদের জন্য একজন নারীসহ দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান থাকবেন। স্থানীয় সরকার সচিব বলেন, এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কি-না এ সম্পর্কে আইনে কিছু থাকছে না।
গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন জেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এরআগে অবশ্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভায় ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জেলা পরিষদ আইনে কিছু সংশোধন প্রয়োজন রয়েছে। এগুলো শিগগির করা হবে। সংসদের অধিবেশনকালীন সময়ে সম্ভব না হলে অধ্যাদেশ জারি করে সংশোধিত আইন কার্যকর করা হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে অধিকতর গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী করতে জেলা পরিষদের নির্বাচন করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জানান, সর্বশেষ ২০০০ সালে স্থানীয় সরকার জেলা পরিষদ আইন সংশোধন করা হয়। শর্তসাপেক্ষে পরোক্ষ নির্বাচনের বিধানও রাখা হয় এই সংশোধিত আইনে। স্থানীয় সরকার জেলা পরিষদ আইনের ১৯ ধারায় চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের বিষয়ে বলা হয়েছে, পরিষদ প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করবে সে তারিখ থেকে পরিষদ গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। এছাড়া আইনে নির্বাচনের জন্য আলাদা বিধি করার বিধানও রাখা হয়েছে। যদিও নির্বাচনের জন্য বিধান বা প্রথমবার পরিষদের গঠন বিষয়ে গেজেট প্রকাশ এখন পর্যন্ত করা হয়নি। সংশোধিত আইনে একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জেলা পরিষদ গঠনের বিধান রয়েছে। জেলার অধিক্ষেত্রের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, পৌরসভা/সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর, উপজেলার চেয়ারম্যান, সদস্য, নারী সদস্য সকলের ভোটে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিধান রয়েছে বিদ্যমান আইনে। জেলা পরিষদে দুটি ভাইস চেয়ারম্যান পদ, পৌর চেয়ারম্যানের স্থলে মেয়র শব্দ, কমিশনারের স্থলে কাউন্সিলর শব্দ ইত্যাদি কিছু সংশোধনী আনা হবে। স্থানীয় সরকারের অন্যতম স্তর জেলা পরিষদে ৪২ বছরেও নির্বাচন হয়নি। সংবিধান ও আইন বিধি-বিধানে স্থানীয় সরকারের সকল স্তর জনপ্রতিনিধির দ্বারা পরিচালিত হওয়ার বিধান থাকলেও এসব বিধি-বিধান এক্ষেত্রে অকার্যকর রয়েছে দীর্ঘকাল ধরে।
২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ ২০১২ সালের ১৫ অক্টোবর দেশের তিন পার্বত্য জেলা বাদে) ৬১ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এসব প্রশাসকের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ দলের স্থানীয় নেতা। ইতোমধ্যে কিছু জায়গায় মৃত্যুজনিত কারণে প্রশাসকের পদ শূন্য হলেও সেখানে আরেকজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রথম ১৯৮৮ সালে জেলা পরিষদগুলোতে সংসদ সদস্যদের চেয়ারম্যান হিসাবে সরাসরি নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৯০ সালে তত্কালীন এরশাদ সরকার শাসনের অবসান হলে ১৯৯১ সালে জেলা পরিষদে চেয়ারম্যানদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। সে সময় থেকে একজন সরকারি কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে জেলা পরিষদ চলছিলো।
এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে নিজেদের পরিদর্শন নিয়মিত করার জন্য ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন। নিজ নিজ এলাকার স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ও যথাযথ তদারকিতে জেলা প্রশাসকরা ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। পুকুর কিংবা জলাশয় সংরক্ষণের তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান কোনো জলাশয় ভরাট হয়ে থাকলে সরকার তা খনন করে দেবে। এছাড়াও যদি খাস জমি পাওয়া যায় সেখানে পুকুর খনন করে প্রাকৃতিক পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সুপেয় পানির চাহিদা মিটানো যাবে। এক্ষেত্রে হাওর-বাঁওড়ের পানিও সংরক্ষণ করা দরকার।