আস্তানায় হামলা চালায় মুখোশ পরা ৮-১০ যুবক
স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় বাউলদের ওপর হামলা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাউল নুরু বক্স শাহ ওরফে নুরু ফকির (৬০) এলাকায় ফিরেছেন। গত শনিবার রাতে জীবননগর উপজেলার একতারপুর গ্রামে দুর্বৃত্তরা তিন বাউলকে রড দিয়ে পিটিয়ে ও অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন নুরু বক্স। গত বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা খবর পান যে নুরু ঝিনাইদহে মহেশপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের বুদো শাহর বাড়িতে রয়েছেন। পরে নুরুর মেজ ভাই নুর হোসেন ও তরিকাপন্থি ভাই আলমগীর হোসেন সেখানে গিয়ে তাকে বিকেলে জীবননগর থানায় নিয়ে আসেন।
থানায় অবস্থানকালে নুরু শাহ বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে তিনি এবং কুষ্টিয়ার মিরপুরের শোরুদা গ্রামের আবদুর রহিম শাহ ও তার স্ত্রী গত শনিবার রাতে একতারপুর আখড়াবাড়িতে বেড়াতে যান। রাত ১২টার দিকে ৮-১০ জন মুখোশধারী বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। নুরুকে বেধড়ক পেটায়। পিটুনি খেয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে লোকমুখে শোনেন, বাকি তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেছে হামলাকারীরা। নুরু বলেন, হামলাকারীদের বয়স ছিলো ২০-২৫ বছর। সবার মুখ ছিল বানর টুপি বা গামছা দিয়ে বাঁধা।
হামলায় আহত নুরু শাহর স্ত্রী রুশিয়া বেগম ঢাকার ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আবদুর রহিম শার স্ত্রী বুলু বেগমের চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে অর্থাভাবে। তার ছেলে লিটন আলী বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় তার মায়ের দুই পা ভেঙে গেছে। টাকার অভাবে বুধবার হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে। একই হামলায় আহত তার পিতার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। হামলার ঘটনায় রোববার একতারপুর গ্রামের শহিদুল হক শাহ জীবননগর থানায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।