আলমডাঙ্গা ব্যুরো: আবারও আলমডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়কে আলমডাঙ্গা শহরের নিকটবর্তী একই স্থানে গাছ ফেলে একই কায়দায় দুঃসাহসিক ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ওই সময় ডাকাতদল ৩টি প্রাইভেট, ১টি মাইক্রোবাস, ২টি পিকআপ ও ২টি ট্রাক থামিয়ে মোবাইলফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার কেড়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২ পিকআপের মহিলা যাত্রীদের নির্যাতন করার অভিযোগও উঠেছে। গত শনিবার ভোররাতে হাফপ্যান্ট পরিহিত ১৮-২০ জনের সশস্ত্র একটি ডাকাত দল এ তাণ্ডব চালায়।
জানা গেছে, গত শনিবার রাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার দিক থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী ৩টি প্রাইভেট, ১টি মাইক্রোবাস, ২টি পিকআপ ও ২টি ট্রাক আলমডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়কের আসাননগর গ্রাম বরাবর পৌঁছুলে সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে ১টি গাছ পড়ে থাকতে দেখেতে পায়। ডাকাতির শিকার একাধিক প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ড্রাইভার জানিয়েছেন, রোডে পড়ে থাকা গাছের সামনে গাড়ি থামলে হাফপ্যান্ট পরা ও কাপড়ে মুখঢাকা ১৮-২০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে সকলকে জিম্মি করে ফেলে। সে সময় (ঢাকা-মেট্রো-গ-১১-৬৭৩৭) প্রাইভেটকারের ড্রাইভার দীন মোহাম্মদ জানান, যাত্রী ও তার নিকট থেকে ৪টি মোবাইলফোন, ২টি সোনার চেন ও নগদ ১৭ হাজার টাকা, (ঢাকা-মেট্রো-গ-১১-৫১০৪) প্রাইভেটকারের ড্রাইভার ও যাত্রীদের নিকট থেকে ১টি মোবাইলফোন ও ৩ হাজার টাকা, (ঢাকা-মেট্রো-গ-১১-২৩২০) হায়েস মাইক্রোবাস ড্রাইভার ও যাত্রীদের নিকট থেকে ২টি মোবাইলফোন ও ১০ হাজার টাকা, রাজন নামের এক যাত্রীর নিকট থেকে ৬ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। এছাড়া (ঢাকা-মেট্রো-গ-১৪-১২৩৬) প্রাইভেটকারসহ চুয়াডাঙ্গার ২টি পিকআপ ভ্যান ও ২টি ট্রাক থামিয়েও ডাকাতি করে বলে জানা যায়। ডাকাতির শিকার একাধিক ড্রাইভার জানিয়েছেন, ডাকাতিকালে ২টি পিকআপ ভ্যানের মহিলা যাত্রীদের ডাকাতরা নির্যাতনও করেছে।
গত ২৭ মে গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়কের একই স্থানে গাছ ফেলে একই কায়দায় হাফপ্যান্ট বাহিনী চুয়াডাঙ্গার ২টি ট্রাকে উপর্যুপরি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে, ট্রাকের যাত্রী ১৯ জনকে কুপিয়ে জখম করে মোবাইলফোন ও ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছিলো।
গত ৯ জুলাই রাতে ডাকাতির শিকার প্রত্যক্ষদর্শী এক ড্রাইভার বলেছেন, হাফপ্যান্ট পরিহিত ও মুখঢাকা ১৮-২০ জনের ডাকাতদলের বেশি ভাগের বয়স ১৭-১৮ বছর। তবে অন্যান্য অনেকের বয়সই ৩০-৩৫ বছর। তাদের নিকট ২টি কাটা রাইফেল ছিলো বলে তাদের দাবি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ড্রাইভার বলেছেন, এই রোডে ডাকাতি বন্ধে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ আন্তরিক হলেও পাইকপাড়া ফাঁড়ি পুলিশের গাফিলতির জন্য ডাকাতির ঘটনা প্রায় ঘটে চলেছে। পাইকপাড়া ফাঁড়ি পুলিশ আন্তরিকভাবে রোডে ডিউটি দিলে একই স্থানে বার বার একই কায়দায় ডাকাতির ঘটনা ঘটতো না।