ঈদের পর আবারো আন্দোলনে যাবেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা : পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেও চালু

 

স্টাফ রিপোর্টার: পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেও চালু রাখায় ক্ষুব্ধ হতাশা ব্যক্ত করেছেন অভিভাবকরা। এ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আবারো আন্দোলনে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা। ঈদের ছুটি শেষে নতুন করে আন্দোলন কর্মসূচি শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

এক সপ্তাহ পূর্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘এবার থেকেই পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল হবে। কিন্তু গত সোমবার মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব বাতিল হয়। ফলে আবারো সমাপনী পরীক্ষায় বসতে হবে ৩০ লাখ শিশু শিক্ষার্থীকে। অভিভাবকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তর ‘প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত’ ঘোষণা হলো। কিন্তু সমাপনী পরীক্ষা হবে ৫ম শ্রেণিতে। সরকারি এমন সাংঘর্ষিক ঘোষণা এবং সিদ্ধান্তে পিষ্ট হচ্ছে শিশুরা।

আবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিল এবার থেকে ৫ম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা থাকবে না। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে আবার শুনতে হলো পরীক্ষা এবারো চলবে। শিশুদের নিয়ে এই টানা-হেঁচড়ায় হতাশ, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। তাদের বক্তব্য, এ সিদ্ধান্তে লাভ হবে কোচিংওয়ালাদের,  শিক্ষা ব্যবসায়ীদের। বছরে আবারো হাজার হাজার কোটি টাকার কোচিং ব্যবসা হবে, অন্যদিকে শিশুরা শৈশব হারাবে।

আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে ৫ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা। এই দুই পরীক্ষায় অংশ নেবে অর্ধ কোটি শিশু-শিক্ষার্থী। ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে আবারো পরীক্ষা-ভীতি শুরু হয়েছে। বছরের শুরু থেকে মূল ক্লাস বাদ দিয়ে কোচিং ক্লাস দিয়েই এই ভীতি তৈরি করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে প্রাইভেট টিউশনির জন্য প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য চাপ তো আছেই। সমাপনীকে ঘিরে নোট ও গাইড ব্যবসায়ী এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের পুরোপুরি ব্যবসায়িক আচরণেও অতিষ্ঠ অভিভাবকরা।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, শিশুদের পরীক্ষার জাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে এ পরীক্ষা বাতিল করা জরুরি। এ পরীক্ষা বহাল রাখার কোনো যৌক্তিকতা  নেই। অভিভাবকরা বলছেন, খুশি হয়েছিলাম, খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলাম। সন্তানদের পরীক্ষা ভীতি ছায়া যেন নেমে গিয়েছিল পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার সাথে সাথেই। কিন্তু আবার পরীক্ষা চালুর ঘোষণায় শিশুদের মধ্যে নতুন করে ভীতি তৈরি হয়েছে। এ থেকে আমরা মুক্তি চাই। ঈদের ছুটি আর আনন্দে কাটবে না ওদের। রাজধানীর মিরপুরের একটি স্কুলের অভিভাবক রফিকুল আমীন বলেন, শিক্ষার্থীরা স্কুলের বার্ষিক বা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিত। এখান থেকেই তো মূল্যায়ন করা যেত। এভাবে সারাদেশে একই প্রশ্নের আলোকে এ পরীক্ষার ঘোষণা ও আয়োজন কেন? এতে শিক্ষার্থীদের চেয়ে লাভ বেশি শিক্ষা ব্যবসায়ীদের। শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতামত নিয়েই যেন শিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। দিলারা ফিরোজ নামে এক অভিভাবক টেলিফোনে এই প্রতিবেদকে জানান, আমার সন্তান একটি প্রতিষ্ঠানের ফার্স্ট বয়। আমি জানি ৫ম শ্রেণির সমাপনীতে অংশ নিলে সে খুবই ভালো করবে। কিন্তু আমিও চাই না ৫ম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা হোক। সন্তানের ওপর এভাবে পরীক্ষার নামে একটি বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হোক। শঙ্কায় থাকি যদি কোনো কারণে খারাপ করে। এ কারণে বিকালে খেলাধুলা বাদ দিয়ে বই নিয়ে বসে থাকে। শৈশবটাই তারা হারিয়ে ফেলছে এই পরীক্ষার কারণে।

Leave a comment