বখতিয়ার হোসেন বকুল: অজ্ঞানপার্টর খপ্পরে পড়া আব্দুল খালেক (৪৯) নামের এক ব্যক্তির পাশ দাঁড়িয়েছে দর্শনা জিআরপির কনস্টেবল শাহিন। গতকাল সোমবার সকালে দর্শনা জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই ফজলুল হকের নির্দেশে তিনি ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং নিজের পকেটের টাকা খরচ করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়া ওই ব্যক্তির বাড়ি যশোর বাঘারপাড়া দর্গাহপুর গ্রামে। তিনি বর্তমানে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (চিৎলা হাসপাতালে) চিকিৎসাধীন আছেন। তবে তার জ্ঞান এখনও ফেরেনি।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার খুলনা থেকে ভোরে ছেড়ে আসা গোয়ালন্দগামী যাত্রীবাহী ট্রেনটি সকাল ৬টার দিকে দর্শনা রেলস্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে ওই ট্রেনের কর্তব্যরত দুজন টিটি ধরাধরি করে অজ্ঞান অবস্থায় এক ব্যক্তিকে স্টেশনের প্লাটফর্মের ওপর নামিয়ে দেন। বিষয়টি দর্শনা জিআরপির কনস্টেবল শাহিনের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিক দর্শনা জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই ফজলুল হককে জানান। জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই ফজলুল হক তাকে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন। কনস্টেবল শাহিন ওই অজ্ঞান ব্যক্তিকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে ওই অজ্ঞান ব্যক্তির পকেটে থাকা আইডিকার্ডের মাধ্যমে তার পরিচয় জানা যায়। তার বাড়ি যশোর বাঘারপাড়া দর্গাহপুর গ্রামে। তিনি পেশায় একজন বাসশ্রমিক। তিনি চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কে চলাচলরত বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করতেন বলে যশোর বাঘারপাড়ার হালিম নামের এক ব্যক্তি মোবাইলফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার ধারণা, খালেক গত রোববার বিকেলে বাসযোগে বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে অজ্ঞানপর্টির লোকজন পানের সাথে কিছু খাইয়ে তাকে অজ্ঞান করে এবং তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়। খালেক অজ্ঞান অবস্থায় খুলনা পৌঁছায়। ওখানে কেউ তার পরিচয় জেনে তাকে গোয়লন্দ মেলে তুলে দিয়েছে। ট্রেনটি দর্শনা পৌঁছুলে ওই ট্রেনের কর্তব্যরত দুজন টিটি তাকে অজ্ঞান অবস্থায় স্টেশনের প্লাটফর্মে নামিয়ে দিয়ে দায় এড়িয়েছেন। খালেকের জ্ঞান ফেরার পরই ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।