আমাদের প্রতিবেশী নেপাল। সরাসরি সীমান্ত দিয়ে বিভক্ত না হলেও, আমাদের সীমান্ত থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার। স্থল বেষ্টিত দেশটির সাথে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। হিমালয়কন্যা নেপাল থেকে নেমে আসা অনেক নদী ভারতের সীমানা অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করেছে। অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে যেমন তেমনি উজানের দেশ নেপালের নদীগুলোতে উৎপাদিত জলবিদ্যুত ক্রয়ের মাধ্যমে আমাদের ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বাণিজ্য সহযোগী দেশ হিসেবেও নেপালের সাথে আমাদের সম্পর্ক বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েই উন্নয়ন সহযোগী দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের কাজ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্য বাধা নিরসনে বাংলাদেশ-নেপাল সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে। ১১ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-নেপাল বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের দু দিনব্যাপী বৈঠক শেষে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথে সব বাধা দূর করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে এখন থেকে বাংলাদেশের বিএসটিআই অনুমোদিত পণ্য পরীক্ষা ছাড়াই গ্রহণ করবে নেপাল। একই সুবিধা পাবে নেপালের স্ট্যান্ডার্ড ব্যুরোও। এছাড়া স্যানিটারি ও ফাইটো স্যানিটারি বিষয়ে আরো একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। উভয় দেশের বাণিজ্য সচিব এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
বাংলাদেশ নেপালকে ১০০টির মতো পণ্যে এবং নেপাল বাংলাদেশকে ৫০টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বলেও বৈঠকে মতৈক্য হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে ট্রানজিট কার্গো পরিবহনের পদ্ধতি নির্ধারণ, উভয় দেশের পণ্য আমদানিতে পারস্পরিক শুল্কসুবিধা সম্প্রসারণ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, কাঁকরভিটা-পানিট্যাংকি-ফুলবাড়ী বাণিজ্যপথ পুরোপুরি চালু, রোহনপুর ও সিনবাদ রেলপথ ব্যবহার করে ট্রানজিটে পণ্য পরিবহন সুবিধা, পরস্পরের বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণ, নেপালি নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থলবন্দরে অন-এরাইভাল ভিসা প্রদান, দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত পর্যটনশিল্পের প্রসার, ওষুধপণ্যের নিবন্ধন পদ্ধতি সহজীকরণ, সরকারি পর্যায়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়। এবং স্যানিটারি ও ফাইটো স্যানিটারি বিষয়ে পৃথক একটি এমওইউ সইয়ের ব্যাপারেও উভয় পক্ষ সম্মত হয়।
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির বহুমাত্রিক সম্ভাবনা থাকলেও প্রকৃত বাণিজ্যের প্রসার আশানুরূপ হয়নি। নেপালে বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, অন্যদিকে নেপালি পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) এবং নেপাল ব্যুরো অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড মেট্রোলজির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাণিজ্য বাধা দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলেই আমরা মনে করি। একই সাথে বাংলাদেশ-নেপাল সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে উভয় দেশের পণ্য অন্য দেশে রফতানির ক্ষেত্রে বাধা দূর হবে। উভয় দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উঠে এলো। এখন এর সুবিধা নিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নিতে হবে।