দামুড়হুদার ছয়ঘরিয়ার সেই আলোচিত কবিরাজ আলেফ মুন্সি ফের কারাগারে : শাস্তির দাবিতে অনড় ধর্ষিতার পরিবার
দর্শনা অফিস: জিনের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্কুলছাত্রীর দেহভোগ অতঃপর অন্তঃসত্ত্বার ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। টাকার জোরে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগো ওঠে অভিযুক্ত ভণ্ড কবিরাজ আলেফ মুন্সির বিরুদ্ধে। কিছুদিন কারাভোগ শেষে বাড়ি ফিরে গ্রামের কথিত মাতবরদের ম্যানেজ করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রফা করার পায়তারাও যায় ভেস্তে। দম্ভের সাথেই ফের শুরু করে ভণ্ডামি। আবারও কারাগারে ঢুকতে হলো ভণ্ড এ কবিরাজকে।
দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের ঝাজাডাঙ্গা গ্রামের ভণ্ড কবিরাজ আলেফ মুন্সি কুলি থেকে বনে যান জণ্ডিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নিরাময়ের বিশেষজ্ঞ। তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শ শ নারী-পুরুষ। জিন-ভুতসহ বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি দেখিয়ে রোগীদের কাছ থেকে লুটে নিচ্ছিলো প্রচুর টাকা। জিন-ভুতের ভয় দেখিয়ে গ্রামের ৫ম শ্রেণির ছাত্রীর দেহভোগ করায় সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ছয়ঘরিয়া দক্ষিণপাড়ার নয়ন মুন্সির ছেলে আলেফ মুন্সি প্রতিবেশীর ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে জন্ডিস চিকিৎসার নামে রাত-বিরাতে ডেকে নিতো তার বাড়িতে।
স্কুলছাত্রী অভিযোগে জানা যায়, প্রায় সন্ধ্যার পর আলেফ মুন্সি চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিতো। আলেফকে দাদা বলে ডাকতো স্কুলছাত্রী। জিন-ভুতের ভয় দেখিয়ে ঘটনার ৫/৬ মাস আগে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে এ ভণ্ড কবিরাজ। কাউকে বললে জিন-ভুত দিয়ে স্কুলছাত্রীকে মেরে ফেলার ভয় দেখাতো আলেফ মুন্সি। জিন-ভুতের হাত থেকে নিজে ও বাবা-মাকে রক্ষার জন্য মুখ খুলতে সাহস না পেলেও স্কুলছাত্রীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে বুঝে ফেলে পরিবারের লোকজন। পরিবারের পক্ষ থেকে নানা কৌশল অবলম্বন করা হলে ঘটনা খুলে বলে স্কুলছাত্রী। গত বছরের ২৯ আগস্ট রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দামুড়হুদা থানার এসআই শিকদার মনিরুল ইসলাম মনির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আলেফকে গ্রেফতার করেন। এ দিকে আলেফ মুন্সি গ্রেফতারের ৬ দিনের মাথায় স্কুলছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, স্কুলছাত্রীর গর্ভের সন্তান মারা গেছে। সে সময় জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে অক্টোবরের শেষের দিকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে রফা করার পায়তারায় ব্যার্থ হয় ভণ্ড কবিরাজ। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা আমলি আদালতে অর্ন্তবর্তীকালীন জামিনের জন্য আদালতে হাজির হলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে আলেফ মুন্সিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এলাকায় ভণ্ড কবিরাজের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করেছে এলাকাবাসী।