দামড়ুহুদার তিন ইউপি নির্বাচন আগামী ২৮ মে : কুড়ুলগাছি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ প্রার্থী
দর্শনা অফিস/কুড়ুলগাছি প্রতিনিধি: নির্বাচন মানেই আলোচনা-সমলোচনার ঝড়। নির্বাচন মানেই আনন্দ ও উল্লাস। নির্বাচন মানেই কারো কারো হাসি আর কারো কারো কান্না। নির্বাচন মানেই এক শ্রেণির ভোট পাগল সমর্থক ও কর্মীর মধ্যে খুশির ফুয়ারা। এ রকমই খুশিতে মেতেছে দামুড়হুদার ৩ ইউনিয়নবাসী। দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ও কার্পাসডাঙ্গা ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ মে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা যেন নিজ নিজ ঘর ছেড়েছেন। শুধু চেয়ারম্যান প্রার্থীরাই নয়, ঘর ছাড়ার অবস্থা সংরক্ষিত মহিলা ও সাধারণ মেম্বার প্রার্থীদেরও। প্রার্থীদের নিজ ঘর ছাড়ার অবস্থা হলেও অন্যের ঘরে ঘরে ধরনা দিচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন, চাচ্ছেন দোয়া, সমর্থন ও ভোট। কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই যেন নির্বাচনের আমেজ ছড়িয়েছে। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় মুখরিত ইউনিয়ন এলাকার সবকটি গ্রাম। ভোটারদের মধ্যে আলোচনা-সমলোচনায় হাট-বাজার, রাস্তার মোড়, চায়ের দোকান, হোটেল এলাকা যেন গরম করে তুলছে। আমডাঙ্গা, প্রতাবপুর, চণ্ডিপুর, কুড়ুলগাছি, ধান্যঘরা, দুর্গাপুর, সদাবরী, বুইচিতলা, নতুনগ্রাম, ওসমানপুর, ঠাকুরপুর, চাকুলিয়া, ফুলবাড়ি গ্রাম নিয়ে গঠিত কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন পরিষদ। এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ১৪৩ জন। ২০১১ সালের ২১ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াত নেতা সরফরাজ আলী। ৩১ জুলাই ওই পরিষদ দায়িত্বভার গ্রহণ করে। সে হিসেব অনুযায়ী মেয়াদ উত্তীর্ণের কিছুদিন আগেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী নির্বাচন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসার স্বপ্ন দেখে কয়েক মাস আগেও বেশ কয়েকজন প্রার্থীর নাম শোনা গেলে অবশেষে নির্বাচনের দৌড়গোড়ে এসে তারা নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। কেন কি কারণে নিজেদের গুটিয়েছেন তা অনেকের কাছেই পরিষ্কার। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ভোটযুদ্ধে মাঠে রয়েছেন- জামায়াত সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান সরফরাজ আলী। ৫ বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ করতে না পরলেও নিজের অবস্থান তিনি মজবুত করেই রেখেছেন। জামায়াত নেতাকর্মীদের একনিষ্ঠতা সরফরাজ আলীকে চাঙ্গা করে তুলেছেন। নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী পরিচয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন জামায়াত নেতা সরফরাজ আলী। তবে আগামীতে সুযোগ পেলে ইউনিয়নের উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়েই প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। সাবেক চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা হাবিবুল্লাহ বাহার দলের সমর্থন নিয়েই মাঠে রয়েছেন। সাবেক এ চেয়ারম্যানের দলীয় অবস্থান মজবুত থাকলেও বয়সের ভারে খানেকটা পিছিয়ে আছেন তিনি। তবে নেতাকর্মীরা দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে তাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করবেন বলে জানিয়েছেন হাবিবুল্লাহ বাহার। বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম দলের সমর্থন নিয়ে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন। এ দলের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় বেশ খোশ আমেজেই প্রচারণা চালাচ্ছেন রফিকুল ইসলাম। দলকে শক্তিশালী করণের লক্ষ্যেই নেতাকর্মীরা কাজ করছেন রফিকুল ইসলামের পক্ষে। তিনি নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী। এদিকে আ.লীগ নেতা শাহ এনামুল করিম ইনু ও কামাল হোসেন দলের সমর্থন না পেলেও নির্বাচনের মাঠ ছাড়েননি। নিজেদের স্বতন্ত্র প্রার্থী পরিচয়েই নির্বাচনী প্রচারণা করছেন তারা। তরুণ সমাজসেবক ইনু শাহ নিজের অবস্থান বেশ মজবুত করে তুলেছেন। দলের একাংশ পক্ষে থাকায় তিনি এগিয়েছেন বেশ। ইউনিয়ন এলাকায় সৎ ও বলিষ্ঠ সমাজসেবক হিসেবে ইনু শাহকে নিয়ে ভাবছেন ভোটাররা। নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনের মাঠ চষছেন তিনি। ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোটযুদ্ধে মাঠে থাকলেও মূল লড়াই হতে পারে দ্বিমুখি।
এদিকে ইউনিয়নের ৩টি সংরক্ষিত মহিলা আসন ও ৯টি ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থীরা প্রচারণার ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। প্রত্যেক প্রার্থী নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে নানামুখি কৌশল অবলম্বন করছেন। দোয়া ও ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি উন্নয়নের বুলি ও প্রতিশ্রুতি দিতে কম নেই কারো।