মহাসিন আলী: বৈরি আবহাওয়ার কারণে এ বছর পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুরের পাটচাষিরা। এ বোশেখের তৃতীয় সপ্তাহ শেষ হতে চললেও মেহেরপুরে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। রৌদ্র আর খর-তাপে পাটের চারা গাছ পুড়ে যাচ্ছে। বাড়তি খরচ করে জমিতে পানি সেচ দিয়েও বৃষ্টির পানির মতো পাটগাছের চেহারা ফিরছে না বলে হতশায় ভুগছেন জেলার পাটচাষিরা। পাটের পাশাপাশি মরসুমি ফসল নিয়েও বিপাকে পড়েছেন জেলার চাষিরা।
পাট উৎপাদন খ্যাত জেলা মেহেরপুর। পাটের ফলন ও দাম পাওয়ার ওপর ভাগ্য বদলায় এ জেলার চাষিদের। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে এ বছর জেলার কৃষকদের মাথায় হাত উঠেছে। লাভের মুখ দেখা হবে না জেনেও খরচ তুলতে তারা এখনও বৃষ্টির পানির দিকে তাকিয়ে আছেন। এরই মধ্যে তাদের অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে। বোশেখের তৃতীয় সপ্তাহ পার হতে চলেছে তার পরও মেহেরপুরে বৃষ্টির পানির দেখা মেলেনি। এতোদিনে চাষিরা পাটক্ষেতে সেচ দিয়ে এসেছেন। আর কতো? এখন তাদের সব আশা ফুরিয়ে যেতে বসেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসেব মতে এ বছর জেলায় ২৩ হাজার ৩১৪ হেক্টর জমিতে পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্ষ করা হয়। এ বছর পাটচাষের লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু এবছর আবহাওয়া বিমুখ হওয়ায় চাষিরা ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত জমিতে পাটের চাষ করে বিপাকে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ আরও জানান, বৃষ্টির অভাবে শুধু ক্ষেতের পাটই পুড়ছে না। ক্ষেতের চিচিংগা, পুঁইশাক, পটল, ঢেঁড়স, পেঁপেসহ মরসুমি ফসল পুড়ছে। বর্তমান সময়ে ক্ষেতের ফসল নিয়ে চাষিদের পাশাপাশি কৃষি বিভাগও উদবিঘ্ন।
মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের পাটচাষি ফিরোজ আহমেদ মাস্টার বলেন, পাটচাষ নিয়ে চাষিরা চিন্তিত। বৃষ্টির অভাবে ক্ষেতের পাট পুড়ে যাচ্ছে। পাটে পোকা লেগেছে। জমিতে সেচ ও কীট নাশক দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। অন্যান্য বছরে এ সময় অনেকে আউস ধানের চাষ করে থাকেন। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে এ বছর তাও হচ্ছে না।
একই গ্রামের পাটচাষি বগা বলেন, বৃষ্টির অভাবে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ সেচ দিতে হচ্ছে। পাট ক্ষেতে সপ্তাহে একবার সেচ দিতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সপ্তাহে দু বারও সেচ দিতে হচ্ছে। গত ৩ সপ্তাহে এজেলার চাষিদের পাটক্ষেতে পানি সেচ দিতে কি পরিমাণ খরচ করতে হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বৃষ্টির দেখা মিলবে মিলবে করে তারা সেচ বাবদ এতো খরচ করেছে। এখন লাভের আশা ছেড়ে খরচ উঠবে কি-না তা নিয়ে চিন্তিত জেলার চাষিরা।
গ্রাম-গঞ্জের অনেক পাটচাষি জানায়, বৃষ্টি না হওয়ায় তারা চিন্তিত। চলতি বোশেখ মাসে তারা ক্ষেতে ৩ বার সেচ দিয়েছেন। আর পোকা দমনে ২ বার কীটনাকশ প্রয়োগ করেছেন। তারা আরও জানায়, নিজের শ্যালোমেশিন দিয়ে প্রতিবিঘা জমিতে একবার পানি সেচ দিতে খরচ হয় ৫শ টাকা। আর অন্যের শ্যালোমেশিন দিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতে ৬শ থেকে ৭শ টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়া এক বিঘা জমিতে একবার কীটনাশক প্রযোগ করতে খরচ হয় সাড়ে ৫শ টাকা। বৃষ্টির অভাব এ মরসুমের পাটচাষিদের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। চাষিরা একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের উঠে দাঁড়াতে বেগ পেতে হবে মনে করে তারা।