পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় মাদরাসা ছাত্রসহ নিহত ২ : চুয়াডাঙ্গার সাতগাড়িতে শোক

দামুড়হুদার দর্শনা রেলগেটে বাস-মোটরসাইকের সংঘর্ষ : খাদিমপুর-কয়রাডাঙ্গা সড়কে বেপরোয়াগতির করিমন

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও দামুড়হুদার দর্শনায় পৃথক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়কে দর্শনা রেলগেটের নিকট বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী চুয়াডাঙ্গা সাতগাড়ির আবু বক্কর নিহত হন। তিনি দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুর প্রবাসী জীবন কাটিয়ে কয়েক মাস ধরে কুলচারা মোড়ে ভূষিমালের আড়ত দিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। অবশেষে ঝরে গেলেন সড়ক দুর্ঘটনায়। অপরদিকে আলমডাঙ্গার খাদিমপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের একমাত্র শিশুসন্তান মাদরাসা ছাত্র মুসা (৭) শ্যালোইঞ্জিনচালিত করিমনের চাপায় প্রাণ হারিয়েছে।

আমাদের দর্শনা অফিস জানিয়েছে, দামুড়হুদা-দর্শনা সড়কের রেলগেট নামক স্থানে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থলেই মারা গেছে আবু বক্কর (৩৫) নামের এক ব্যক্তি। চুয়াডাঙ্গার সাতগাড়ির ডাক্তার শাহজামালের ছেলে আবু বক্কর গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দর্শনা থেকে বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন মোটরসাইকেলযোগে। এ সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে দর্শনার দিকে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস নিশান পরিবহনের (ঢাকা-মেট্রো-জ-১১-২১৩০) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় মোটরসাইকেলের। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আবু বক্কর। ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে দর্শনা আইসি ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলাম ও দামুড়হুদা থানার এসআই সুব্রত বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণে নেয়। আটককৃত নিশান পরিবহন দর্শনা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। নিহত আবু বক্করকে পরিবারের সদস্যদের হাতে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আবু বক্করের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার মামলা ও বা অভিযোগ করেনি বলেও জানিয়েছেন এসআই সুব্রত বিশ্বাস। এদিকে তার পরিবারর সদস্যরা বলেছেন, আবু বক্কর সাত বছর আগে বিয়ে করলেও সংসারে সন্তান অসেনি। গতরাত ১০টায় সাতগাড়ি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়। তিনি দু ভাই দু বোনের মধ্যে সকলের বড় ছিলেন।

খাদিমপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার সকাল দশটার দিকে খাদিমপুরের মহির জোয়ার্দ্দারের একমাত্র ছেলে মাদরাসা ছাত্র মুসা মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরে বইভর্তি ব্যাগ মায়ের হাতে দেয়। রাস্তায় গিয়ে সামনে পায় শিপনের শ্যালোইঞ্জিনচালিত করিমন। তাতে চড়ে বসে। অদক্ষ চালক স্বপন খাদিমপুর মাঠপাড়া থেকে আসমানখালীর দিকে বেপরোয়া গতিতে ছুটতে থাকে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদিমপুর কয়রাডাঙ্গা রাস্তার খালেক মাস্টারের বাড়ির সামনে করিমনটি উল্টে যায় এবং মুসা নিচে চাপা পড়ে। শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়। বাবা-মা একমাত্র সন্তান মুসাকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায়। বাদ জোহর খাদিমপুর ঈদগা ময়দানে তার দাফন কাজ সম্পন্ন হয়।

Leave a comment