চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা : দু ভুয়া চিকিৎসকের জেল-জরিমানা

দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় দি ক্যাপিটাল চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়ে মাইকিং

দামুড়হুদা প্রতিনিধি: দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় ঢাকা শ্যামপুরের দি ক্যাপিটাল চক্ষু হাসপাতাল লিমিটেডের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়ে মাইকিং করে রোগী দেখার সময় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে জনতার হাতে আটক ফোরকান আলী (৩৩) ও জান মোহাম্মদ (২৮) নামের দু ভুয়া চক্ষু চিকিৎসককে ৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ দিন করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদুর রহমান ওই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার রতনপুর গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে ফোরকান আলী এবং নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের লালন ফকিরের ছেলে জান মোহাম্মদ যোগসাজশ করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চক্ষু রোগী দেখার নাম করে গত দু দিন আগে মাইকিং করে। তারই আলোকে গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে রোগী প্রতি ৩০ টাকা ফি নিয়ে এলাকার চক্ষুরোগীদের চোখ পরীক্ষা শুরু করে এবং ২শ টাকার বিনিময়ে চশমা দেয়া শুরু করে। কার্পাসডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম তিনিও ওই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হন চোখ পরীক্ষার জন্য। তাদের আচার-আচরণে চেয়ারম্যানের মনে সন্দেহ দেখা দেয়ার এক পর্যায়ে তিনি বিষয়টি দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদুর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা এবং সেনেটারি ইন্সপেক্টরকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের চিকিৎসার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় ভুয়া ওই দু চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে থাকা স্যালাইনের প্যাকেটে তরল পানি জাতীয় মলমটি কি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে জানতে চাইলে তারা বলেন, রোগীদের চোখ পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কথাটি শুনে আতকে ওঠেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা। তিনি জানান, ওই তরল পানি জাতীয় মলমটি মানুষের গা হাত-পা কেটে গেলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অথচ আপনারা রোগীদের চোখে ব্যবহার করছেন। এটা একটা ভয়ঙ্কর ব্যাপার। এ সময় তাদের কাছে থাকা বেশ কিছু লেন্সযুক্ত চশমা এবং চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত কয়েক পদের ওষুধ জব্দ করা হয়। পরে ভুয়া ওই দু ডাক্তারকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নেয়া হয় এবং চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫২ ধারায় তাদের উভয়কেই ৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কাজে সহযোগিতা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. প্রফুল্ল কুমার মজুমদার, সেনেটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল মতিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ জহিরুল ইসলাম ও উপজেলা আইসিটি টেকনিশিয়ান খাইরুল কবির দিনার।

Leave a comment