আমির খানের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলার আবেদন খারিজ

ভারতের বলিউড অভিনেতা আমির খানের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলা করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ইন্দোরের একটি স্থানীয় আদালত আমির খানের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে দেয়। ভারতে অসহিষ্ণুতা বেড়ে চলাকে কেন্দ্র করে আমির খানের এক বিবৃতিতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী মহল থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার ঘোষণা দেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে তা বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের আবেদন দায়ের করা হয় দেশের বিভিন্ন আদালতে।
আইনজীবী আশোক সোহনি, অশোক ভার্গব এবং অন্যদের পক্ষ থেকে করা আবেদনের যুক্তিতে অসম্মতি জানিয়ে অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসিজেএম) জিতেন্দ্র সিং কুশওয়াহ বলেছেন, আমিরের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ এ ধারা মোতাবেক দেশদ্রোহের মামলা করার মতো যুক্তিসঙ্গত কোনো ভিত্তি নেই।
আবেদনকারী অশোক ভার্গব বলেন, তাদের অভিযোগ খারিজ হওয়ার সিদ্ধান্তকে রিভিউ আবেদন দাখিল করে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। আমির খানের বিরুদ্ধে গত ২৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগ করে বলা হয়, অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে আমির খান দেশের নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের অনুভূতিকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করেছেন এজন্য তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা চালানো উচিত।এসিজেএম জিতেন্দ্র সিং কুশওয়াহ আবেদনটি গ্রহণ করে ৩ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন। শুক্রবার শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করে দেন এসিজেএম কুশওয়াহ।
প্রসঙ্গত, আমির খান অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে দেশের জন্য অবমাননাকর বিবৃতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করে ‘অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে তাকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেয়া হয়। সংগঠনটির কার্যকরী প্রেসিডেন্ট কমলেশ তিওয়ারির দাবি করেন, ‘মাতৃভূমিকে অপমানকারী’ আমির খান এবং শাহরুখ খানের মতো অভিনেতারা ‘দেশদ্রোহী’। এদের ভারত ত্যাগ করা উচিত এবং এ ধরণের লোকের মুণ্ড কেটে প্রকাশ্য রাস্তার মোড়ে ঝুলিয়ে দেয়া উচিত। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের বিবৃতি দিতে কেউ সাহস না দেখায়।’ সম্প্রতি দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে দেশে চলমান অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আমির খান। এ নিয়ে তিনি বা তার পরিবার কতটা উদ্বিগ্ন তা বোঝাতে স্ত্রী কিরণ রাওয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কিরণের সঙ্গে যখন এই বিষয়ে কথা বলি তখন ও আমাকে বলে “আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে না তো”? ও ওর বাচ্চার নিরাপত্তার জন্য ভীত। আমাদের আশেপাশের পরিবেশ কী হবে তা ভেবে ও ভয় পাচ্ছে।’

আমির খানের এ ধরণের মন্তব্যের পরেই দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।