স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দেখা দিচ্ছে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা। আশেপাশে হামলা পাল্টা হামলার পর গতকাল জেলা যুবলীগের আহ্বায়ককে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে একজনকে ধরে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি আংশিক স্বীকারও করেছে। পরে তাকে পুলিশে দেয়া হলে পাল্টাতে শুরু করে মুখের বোল।
অপরদিকে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের চুয়াডাঙ্গাস্থ বাসার ছাদেসহ তিনজনের বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া জেলা শহরে গতরাতে কয়েকটি স্থানে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একের পর এক ঘটনা প্রবাহ আর মহড়া দেখে অনেকেই বলেছেন, চুয়াডাঙ্গা ক্রমশ রক্তাক্ত হওয়ার পথেই হাঁটছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের ডিঙ্গেদহে গতপরশু বিকেলে যুবলীগ আহ্বায়ক জিপু চৌধুরীর পক্ষের তোরাপের সাথে যুবলীগ নেতা নঈম জোয়ার্দ্দারের পক্ষের আজিজুলের বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। রাতে তোরাপের বাড়িতে ঘটে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। প্রতিপক্ষ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপুসহ দলীয় নেতাকর্মীদের গাড়িবহর তোরাপের বাড়ি পরিদর্শনে যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় বিজিবির ৩নং গেটের নিকট তথা হায়দারপুর প্রান্তে জিপু চৌধুরীর গাড়ি পৌঁছুলে গুলির শব্দ হয়। থমকে থেমে যায় সকলে। দৌড়ে পালায় আজিজুলসহ তিনজন। এদের মধ্যে জিল্লুর রহমান জিলকার (৩৫) ধরা পড়ে। তাকে ধরে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। জিল্লুর রহমান জিলকার চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের শ্রীকোল বোয়ালিয়ার মৃত জমির উদ্দীনের ছেলে। জিপু চৌধুরীর ওপর হামলার খবর পেয়ে সন্ধ্যায় যুবলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এদিকে হায়দারপুর মোড়ের অদূরবর্তী স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায় বোয়ালিয়া শ্রীকোল গ্রোমের কালা চাঁদের ছেলে কাশেম উদ্দীন (৪৫)। তার হাত ধারালো অস্ত্রের কোপে ক্ষত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জিপু চৌধুরীর লোকজন আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। তাকে দেখতে গিয়ে হাসপাতালে যুবলীগ নেতা নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার সাংবাদিকদের সামনে বলেন, কাশেমকে কুপিয়ে জখম করেছে। যুবলীগের জিলকারকে ধরে নিয়ে গেছে। তাকে ধরে নিয়ে কোথায় রাখা হয়েছে তা আমি জানি না। পুলিশকে বলা হয়েছে তাকে উদ্ধার করতে।
অপরদিকে রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয় জিলকারকে। জিলকার বলে, আমি ব্যবসায়ী। আমার সাথে ডিঙ্গেদহের আজিজুলের সাথে ভালো সম্পর্ক। ওর মোটরসাইকেলে আমরা তিনজন আসছিলাম। পথিমধ্যে বিজিবির ৩নং গেটের নিকট দেখি গাড়িবহর। আজিজুল ফাঁকা গুলি করে। লোকজন ধাওয়া করে। আজিজুল মোটরসাইকেল ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়। আমাকে লোকজন আটক করে। মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থলেই ভাঙচুর করা হয়। আটক করে আমাকে যুবলীগ কার্যালয়ে আনা হয়েছে।
এরপর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, আমার ওপর কারা কেন একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তা আপনারা জানেন। আমি চুয়াডাঙ্গা শহরকে যতোটাই শান্ত রাখার চেষ্টা করছি, ওই পক্ষ ততোটাই অশান্ত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। সংবাদ সম্মেলন শেষে জিল্লুর রহমান জিলকারকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে জিলকারকে গ্রেফতার করে সদর থানায় নেয়ার জন্য ফোন করা হয়। ওসি চুয়াডাঙ্গা সদর থানার একজন এসআই আবুল খায়েরসহ সঙ্গীয় ফোর্স পাঠান। ওই এসআইর নিকট জিলকারকে না দিয়ে দাবি জানানো হয়, সদর থানার ওসি এসে জিলকারকে নিয়ে যাক। এ দাবি জানিয়ে সড়কে বসে নেতাকর্মীরা ক্ষণিকের জন্য অবরোধও করে। পরে সদর থানার এসআই আবুল্লাহ আল মামুন ও এসআই জিয়াউর রহমান জিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে যুবলীগ কার্যালয় থেকে জিল্লুর রহমান জিলকারকে নিজেদের হেফাজতে নেন। হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। রাতেই মামলার জন্য জিপু চৌধুরী সদর থানায় পৌঁছান। তবে পুলিশ বলেছে, রাতে মামলা হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মামলা রেকর্ড করা হতে পারে।
যুবলীগ কার্যালয়ে যখন সংবাদ সম্মেলন চলে তখন খবর পাওয়া যায় জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান জিল্লুর চুয়াডাঙ্গা শেখপাড়াস্থ বাসার ছাদে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ খবর জানিয়ে অভিযোগ তুলে বলা হয়, ওরাই বোমা হামলা চালিয়েছে। এছাড়া গতরাতেই পৌর ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মমিনুল হাসান ও যুগ্ম সম্পাদক মাফিজুর রহমান মাফির বাড়িতেও বোমা নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।