তাদের চাপা ক্ষোভ রূপ নিয়েছে বিদ্রোহে

 

টিউশন ফি’র ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ-অবরোধ করেছে। গত বুধবার ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ করলে পুলিশের সাথে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। রামপুরার আফতাবনগর, রামপুরা ব্রিজ ও মেরুল বাড্ডা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হলে একপর্যায়ে পুলিশ গুলিও ছোড়ে, এতে একজন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারসহ ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়। বিক্ষোভ চলাকালে দেখা দেয় ব্যাপক যানজট, দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। বুধবারের ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার ইস্ট-ওয়েস্টের ছাত্রছাত্রীদের সাথে যোগ দেয় নর্থ সাউথ, স্ট্যামফোর্ড, ব্র্যাক, ইনডিপেন্ডেন্ট, ড্যাফোডিল, লিবারেল আর্টসসহ বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। এতে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা আন্দোলনমুখর হয়ে ওঠে, সৃষ্টি হয় যানজট। এতে নগরবাসীর ভোগান্তি চরমে ওঠে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রছাত্রীরা টিউশন ফির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে অনেকদিন থেকেই। তারা ভ্যাট চাপিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলো তাৎক্ষণিকভাবে। ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে হাইকোর্টে রিটও করা হয়েছে দুটি। তবে আদালত ভ্যাট আদায়ের সিদ্ধান্ত এখনও স্থগিত করেননি। শেষ পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনের পথই বেছে নিয়েছে। তাদের চাপা ক্ষোভ রূপ নিয়েছে বিদ্রোহে। বস্তুত টিউশন ফি’র ওপর অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপ ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের ওপর তৈরি করেছে বাড়তি আর্থিক চাপ। এ চাপ বহনের ক্ষমতা অনেকেরই নেই। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, যারা ৪০-৫০ হাজার টাকা টিউশন ফি দিতে পারেন, তারা আর ৫-৭ হাজার টাকা বেশি দিতে পারবেন না কেন? এ নিতান্তই অযৌক্তিক কথা। অর্থমন্ত্রীর কথা যৌক্তিক হলে পাল্টা কেউ বলতে পারেন, তাহলে পাঁচ টাকার বাস ভাড়া দশ টাকা করলে কী হয়! সামান্য পাঁচ টাকা তো সবাই দিতে পারে। আসলে যারা পাঁচ টাকার ভাড়ায় বাসে চড়েন, তাদের অনেকের কাছেই অতিরিক্ত পাঁচ টাকা অনেক বড় ব্যাপার। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এমন অভিভাবকও আছেন, যারা অতি কষ্টে তাদের সন্তানদের টিউশন ফি জোগাড় করে থাকেন। সবাই তো আর বড় ব্যবসায়ী কিংবা প্রসিদ্ধ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নন। এ বাস্তবতাটা বুঝতে হবে সরকারকে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভ্যাট যদি দিতেই হয়, সেটা ছাত্রছাত্রীরা দেবে কেন? ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ যুক্তির বিপরীতে বলা হচ্ছে, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী থাকাকালে আইন করেছিলেন- ভ্যাট প্রযোজ্য শুধু ভোক্তাদের ক্ষেত্রে। সুতরাং ছাত্রছাত্রীদেরই ভ্যাট দিতে হবে। আমাদের কথা হলো, আইন মানেই কি তা চিরস্থায়ী? আইনের পরিবর্তন, পরিমার্জন কি করা যায় না? বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ওপর ভ্যাট আরোপ করার বিষয়টি অভিভাবকদের জন্য একটি নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজেই এ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি যখন এতো প্রবল, তখন আইন সংশোধন করা যেতেই পারে। আমরা আশা করবো, সরকার-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সে লক্ষ্যে আইন সংশোধন করবে।