প্রসঙ্গ: দোকানে দোকানে ‘একদর’ লিখে বাড়তি লাভ

 

অর্থদানে তৃপ্তি আছে। কষ্ট হয় তা হারালে বা কারো কাছে ঠকলে। দোকানে কিছু কিনে ঠকতে চান না কেউই। বোধ করি, এ কারণেই অধিকাংশেরই ঝোঁক থাকে ‘একদর’ দোকানের দিকে। এসব দোকানেও যদি দ্রব্যসামগ্রীর ক্রয়-বিক্রয় মূল্যের বিস্তর ফাঁরাক থাকে! সেখানেও ঠকতে হচ্ছে বলে জানা যায়, তা হলে ক্রেতা সাধারণ তথা ভোক্তারা আস্থা রাখবে কোথায়?

ব্যবসায়ীরা লাভ করার জন্যই বিপণিবিতান সাজিয়ে বসেন। লাভের তো মাত্রা থাকতে হয়। সে কারণেই ভোক্তা অধিকার আইনে কতো শতাংশ লাভ করা যাবে তা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ‘একদর’ দোকানে বিক্রির জন্য রাখা দ্রব্যসামগ্রীর ক্রয়ের রসিদ দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত যখন খুঁজে পান অসঙ্গতি, বিধি না মানার নজির, তখন দোকানিকে অর্থদণ্ডাদেশের মধ্যদিয়ে মূলত সতর্ক করে দেন। আইনের প্রতি অন্যদেরও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার তাগিদ ফুটে ওঠে। চুয়াডাঙ্গার সমবায় নিউ মার্কেট নামে পরিচিত সারিবদ্ধ দোকানগুলোর মধ্যে তিনটিতে গত পরশু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। একদর লেখা থাকলেও বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা তৈরি পোশাক ও বস্ত্রে লেখা মূল্য যাচাই করে অসঙ্গতি পাওয়ার কারণে তিনটি দোকানিকে জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহযোগিতায় ছিলেন জেলা মার্কেটিং অফিসার। এছাড়া অনন্যা ফুড নামের একটি খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানেরও জরিমানা করা হয়েছে। উৎপাদিত পণ্যে বিধি মোতাবেক মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, ব্যাচ নম্বরসহ মেয়াদ না লেখার কারণে অর্থদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অবশ্যই ওই মার্কেটে শুধু ওই তিনটি দোকানেই ‘একদর’ লেখা নয়, আরো বেশ কয়েকটি দোকানে তা লেখা আছে। সেগুলোতে? একদর লিখে সকলেই যে বিধি বহির্ভূতভাবে বাড়তি দর লিখে রাখেন, বিক্রি করেন, তাও নয়। অন্যরাও যদি বিধি ভেঙে বাড়তি লাভের ফাঁদ পাতেন তা হলে নিশ্চয় ওই তিনটি দোকানে অর্থদণ্ডাদেশের খবরে নিজেদের সুধরে নেবেন। তা না হলে তারাও নিশ্চয় পরবর্তীতে জরিমানা থেকে রক্ষা পাবেন না। যদিও তাদের অনেকেই একদর লেখাটা সরিয়ে নিয়েছেন বা আড়াল করেছেন। একদিনে সকল দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময়-সুযোগ হওয়ার কথা নয়। পর্যায়ক্রমে সকল দোকানেই হবে হয়তো। আইন সকলের জন্যই সমান। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট দোকানে অভিযান পরিচালিত হয় তা হলে প্রসঙ্গটা ভিন্ন। তখন অভিযোগকারীর পদক্ষেপ প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। অবশ্যই মনে রাখা দরকার, আইন মানে গণহারে সকলকে দণ্ডিত করা নয়, সমাজের স্বার্থে অনিয়ম-অপরাধ প্রবণতা রোধের লক্ষ্যেই তা প্রণয়ন ও প্রয়োগ। এরপরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করতে হলে আইন যে সকলের জন্যই সমান, তা জনসম্মুখে স্পষ্ট করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

আইনের শাসন নিশ্চিত করার কাজে সহায়তার জন্যই বোধ করি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মপরিধি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে, হচ্ছে। কালের বিবর্তনে প্রয়োজনের তাগিদে নতুন নতুন আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে, হচ্ছে। সকল আইন বয়ে আনুক সুন্দর সমাজ। সুবিধা ভোগ করুক সমাজের সকলে।