বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম : ঝিনাইদহের কৃষক-কৃষাণীরা ধান গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন

 

মনজুর আলম: ঝিনাইদহের কৃষকরা এবার বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। একই সাথে বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রথম দিকে বোরো বীজতলায় অতিরিক্ত কুয়াশাও ঠাণ্ডায় ধানের চারাগুলো কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথেই চারাগুলো সবুজ সতেজ হয়ে ওঠে। পরে কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং তেমন কোনো বড় ধরনের পোকা-মাকড়ের আক্রমণে পড়তে হয়নি বোরো আবাদে। এখন মাঠের পর মাঠ ধানের সোনালি রঙে রঙিন হয়েছে। মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার ধুম। একই সাথে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বাড়ির কৃষাণীরা।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতারসূত্রে জানা গেছে,চলতি মরসুমে জেলায় ৮১হাজার ৩১০হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যার মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ১৮ হাজার ৭১০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বোরো চাষ হয়েছে ১৮হাজার ৫০হেক্টর। কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৫হাজার ৯৫০হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা হলেও চাষ হয়েছে ১৫হাজার ২৯০হেক্টর জমিতে।কোটচাঁদপুর উপজেলায় ৫হাজার৫৮৪হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা ছাড়িয়ে ৫হাজার ৬৯৫হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। মহেশপুর উপজেলায় ১৯হাজার ৮৮০হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ১৯হাজার ৭৩০হেক্টর জমিতে। শৈলকুপায় ১৩হাজার ৮১০হেক্টর জমি বোরো আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে আবাদ হয়েছে ১৫হাজার দেড়শ হেক্টর জমিতে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়৭হাজার ৩৭৬হেক্টর জমিতে আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৭হাজার ৭শ জমিতে আবাদ হয়েছে। যা মরসুমের লক্ষ্যমাত্রার ২৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছে কৃষকেরা। আর এ বোরো আবাদ থেকে ৩লাখ ১৬হাজার ৫ ৮৩ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহের কৃষি বিভাগের ডিরেক্টর জয়নাল আবেদিন জানান, এ মরসুমের ফসলের জন্য ভালো আবহাওয়া,সঠিক সময়ে সেচ,সারসহ অন্যান্য যত্ননেয়ার কারণে ভালো ফলন পাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।