ভালো ফল অর্জনের পরও ভর্তি নিয়ে উৎকণ্ঠা

 

বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যকশিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জনের বিষয়টি ইতিবাচক। ভালো ফলাফল অর্জনের পর সবশিক্ষার্থীর লক্ষ্য থাকে ভালোমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া। সারাদেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও ভালোমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। এ অবস্থায় ভালো ফল অর্জনকরা অনেক শিক্ষার্থীকে মাঝারি মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে। এনিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের উৎকণ্ঠার শেষ নেই। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারিশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।কারণ দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বেশি অর্থের বিনিময়ে বেসরকারি নামকরাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া সম্ভব নয়। স্কুলগুলো দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্তসম্প্রসারণের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলেও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভালোশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব কিছুটা দূর হবে। বিভিন্ন কোটা ব্যবস্থা মেধাবীদেরসুযোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ভর্তির ক্ষেত্রে কোটারপরিবর্তে মেধাকেই অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন।

আমরা জানি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীর ভিত মজবুত না হলে পরবর্তীস্তরের শিক্ষার্থীদের পক্ষে ভালো ফলাফল উপহার দেয়া সম্ভব হয় না। তাইশিক্ষার প্রতিটি স্তরে মান বাড়ানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। লক্ষণীয়যে, এসএসসি ও এইচএসসির ফল প্রকাশের পর সারাদেশে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলেওএসব মেধাবী শিক্ষার্থীর অনেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়উত্তীর্ণ হতে পারছে না।

এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নিলেই বোঝা যায়, বর্তমানেজিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলেও শিক্ষার মানের ক্ষেত্রেকাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। এর জন্য শিক্ষকরাও কম দায়ী নন। বর্তমানেমেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় অনাগ্রহী হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, এমনটিবললে বাড়িয়ে বলা হবে না। বর্তমানে শহরাঞ্চলের বাইরের হাসপাতালে যেমনডাক্তারের সংকট বিদ্যমান, তেমনি ওইসব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধাবীশিক্ষকরা থাকতে অনাগ্রহী। স্বাভাবিকভাবেই ওইসব এলাকার শিক্ষার মানেকাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হয়। এ অবস্থায় সন্তানের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরার জন্য অনেক অভিভাবক ছুটছেন শহরে। এভাবে বাংলাদেশের শহরগুলোর ওপরজনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় শহরের বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরশিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতেহবে। যেসব শিক্ষক দিনের পর দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধেনিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা। শিক্ষকদের নৈতিকতার মান বাড়ানোর জন্যও কার্যকরপদক্ষেপ নিতে হবে।

বর্তমান বিশ্বের বহুমুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুনপ্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এজন্য পর্যাপ্তসংখ্যকমানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আরও বেশিগুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।