দেশজুড়ে অপহরণ আতঙ্ক : প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরি

 

এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা।অপহরণের উদ্ধার হচ্ছে লাশ। কিছু অপহৃতের তো হদিসই মিলছে না। হাতে গোনা কিছু উদ্ধার হলেও অধিকাংশেরই ভাগ্যে কি ঘটছে তা দেশবাসীর কাছে অস্পষ্ট।

অপহরণ, খুন, গুম, মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের অনেকদৃষ্টান্তই এখন আমাদের সামনে। অপহরণের ঘটনা এতই ভয়াবহ, পুলিশের তথ্য মতেই গত ৩ মাসে সারাদেশে ১৯৬টিঅপহরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের রেকর্ডেরচেয়েও বাস্তব অবস্থা আরো ভয়াবহ। কারণ অনেক সময় অপহরণের মামলা এলেও দায়এড়াতে পুলিশ অপহৃতের স্বজনদের বুঝিয়ে তা থানায় সাধারণ ডায়েরির মধ্যেইসীমাবদ্ধ রাখে। অপহরণসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির বিষয়টিও আরোনাজুক। অপহরণের শিকার অনেকেই রাজনৈতিক নেতাকর্মী। সব রাজনৈতিক দলেরইনেতাকর্মীই অপহরণের শিকার হচ্ছেন। গুম-খুনের ঘটনাগুলো রাজনৈতিক হওয়ারঅভিযোগ বেশ জোরালো। আবার বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, ছাত্র ও সাধারণমানুষও অপহৃত হচ্ছেন। তার আড়ালে মুক্তিপণ। র‌্যাব, ডিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরনামে অপহরণের ঘটনা ঘটলেও এ বাহিনীগুলো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সাথে তাদেরজড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করছে। অন্যদিকে এ বাহিনী নিজেদের সততা প্রমাণেসচেষ্ট নয়, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুনামের জন্যও বিড়ম্বনা সৃষ্টি করছে।সরকারের প্রতি মানুষের আস্থারও ব্যত্যয় ঘটছে।রাজনৈতিক নেতাদের অপহরণ ও তাদের লাশ উদ্ধার নিয়ে যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে তা প্রশমনে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে না পরলে পরিণাম যে ভয়াবহ তা বলাই বাহুল্য।

বিলম্বে হলেও সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিটি অপহরণ ঘটনা তদন্ত ওঅপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে। এনির্দেশের যথার্থতা ফলপ্রসূ হতে পারে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ওঅপহৃতদের সন্ধানের মধ্যদিয়ে। জননিরাপত্তা প্রদান সরকারেরদায়িত্ব।