চুয়াডাঙ্গার গহেরপুরে টাকা হরিলুটের অভিযোগে খাল খনন কাজ বন্ধ

?

স্টাফ রিপোর্টার : চুয়াডাঙ্গা সদরের গহেরপুরে খাল খননের ৬৫ লাখ টাকা হরিলুট হওয়ার অভিযোগে খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন অপ্রয়োজনীয় এ খাল কাটা হচ্ছিলো কার স্বার্থে? জনস্বার্থে না কি ব্যক্তি স্বার্থে? তবে যে কারণেই খাল কাটার উদ্যোগ নেয়া হোক না কেন তা তদন্ত করার দাবি তুলেছে এলাকাবাসী। তা না হলে সরকারি অর্থ কতিপয় ব্যক্তির পকেট ভারী করা ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হবে না বলে এলাকাবাসী মনে করছে।
অভিযোগে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের গহেরপুর গ্রামের তৌহিদ ওরফে তেলার ছেলে আরিফুজ্জামান আরিফ কামরিয়া-পাকশিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি নামের একটি পারিবারিক সমিতি গড়ে তুলেছেন। যে সমিতির সভাপতি তিনি নিজেই। আর বাকি সদস্য পরিবারের অন্যরা। এ সমিতির অনুকূলে টেকসই পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প থেকে তদবির করে ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬শ ১১ টাকা বরাদ্দ করিয়ে নিয়ে আসেন তিনি। ওই টাকা দিয়ে কামরিয়া বিলের পানি চিত্রা নদীতে যাওয়ার জন্য ২ কি.মি. খাল খননের কাজ শুরু করা হয়। যেখানে বিভিন্ন শর্তারোপ করা হয়েছে। তার মধ্যে ২নং শর্তে ১৫টি এলসিএস দল গঠন পূর্বক চুক্তি সম্পাদন করা, ৫নং শর্তে কাজটি পরিবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা, ৬নং শর্তে কাজ শুরুর পূর্বে কাজের স্থলে সাইনবোর্ড টাঙানো এবং সাইড অর্ডার বহি রাখা এবং ৭নং শর্তে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করে যথাযথ দফতরকে জানানো। কোনো শর্ত পূরণের ধার না ধেরে মাটি কাটা মেশিন দিয়ে গত ২৯ মার্চ খাল খননের কাজ শুরু করেন। তাতে এলাকাবাসী বেকে বসে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, গত বছর আরিফ একইভাবে ১কি.মি. খাল খনন করে। বর্ষা মরসুমে দেখা যায় কামরির বিলের পানি চিত্রায় যাবে কি উল্টো চিত্রার পানি খাল দিয়ে বিলে আসছে। প্রথমবারের খাল খননের বিষয়টি ভুক্তোভোগিরা আছ করতে না পারলেও এবারের বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। তাই তো অপ্রয়োজনীয় খাল খননের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই মন্তব্য করে বলেছেন, তদবির করে এ ধরনের প্রকল্প এনে সরকারি টাকা তছরূপ করা ছাড়া আর কিছুই না। এতে করে কতিপয় ব্যক্তির পকেট ভারি হলেও জনগণের তেমন কোনো উপকারে আসবে না। গতবার এ কাজ করে হজম হওয়ায় পুনরায় একই প্রকল্প ভাগিয়ে এনেছে। যে চিত্রা নদীতে খাল দিয়ে পানি যাবে বলে খাল কাটার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেই চিত্রানদী আজ মৃতপ্রায়। বর্ষার জোর বেশি হলে বরং এ খাল দিয়ে কামরির বিলে পানি ঢুকবে। তাছাড়াও ওই খালের ওপর ৬টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থের তৈরি ব্রিজ এবং ১টি সুইজ গেট আছে। এ সমস্ত ব্রিজের নিচে আর খনন করা যাবে না। তাহলে এ খাল খননের যৌক্তিকতা কতোটুকু তা সহজেই অনুমেয়। তা ছাড়া খাল খননের যে শর্ত আছে তার কয়টিই বা মেনেছে সমিতি। তাই এলাকাবাসীর জোর দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন খাল খননের বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধন্ত দেন। যদিও দফতর থেকে খাল খনন কাজের কোনো অর্থ এখন পর্যন্ত ছাড় করাতে পারেনি আরিফ। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াশীমুল বারী বলেন, জানার পর সরেজমিনে দেখেছি এবং খাল খননের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সঠিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে তারপর পরবর্তী সিদ্ধন্ত নেয়া হবে।