করিমন কাড়লো এক স্কুলছাত্রী ও মোটরসাইকেল নিলো এক কৃষকের প্রাণ

চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ ও আলমডাঙ্গার জাহাপুরে পৃথক দুর্ঘটনা : এক শিশুসহ দুজন নিহত

 

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সরোজগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সুবদিয়ার কাশেম আলী (৪৮) ও শ্যালোইঞ্জিনচালিত দানবরূপি যান দুর্ঘটনায় আলমডাঙ্গা জাহাপুরের এক স্কুলছাত্রী রিয়া (১১) নিহত হয়েছেন। কাশেম আলী গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ও রিয়া গতকাল সকাল ১০টায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারায়। রিয়াকে রাজশাহী মেডিকেল কালেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার নিকটজনেরা। মেয়ের মৃত্যুর খবরে তার প্রবাসী পিতা দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের সুবদিয়া পূর্বপাড়ার সাইফুল ইসলামের ছেলে কাশেম আলী মোটরসাইকেলযোগে সরোজগঞ্জ বাজারে যান। বাইসাইকেলের সাথে ধাক্কা মেরে মোটরসাইকেলচালক কাশেম আলী আছড়ে পড়ে গুরুতর জখম হন। বাইসাইকেল আরোহী সামান্য আহত হন। গুরুতর জখম কাশেম আলীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। লাশ নেয়া হয় তার নিজ বাড়িতে। নিকটজনদের আহাজারিতে গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। তিনি ছিলেন তিন সন্তানের জনক। দু মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলে নাসির বিবাহিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়সূত্র। গতরাতেই দাফন কাজ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া করা হয়। তিনি চাষাবাদ করতেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।

এদিকি আমাদের মোমিনপুর ও ঘোলদাড়ি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ-খাসকররা সড়কের জাহাপুর নামক স্থানে গতকাল শনিবার অবৈধ পরিবহন আলমসাধুর চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে স্কুলছাত্রী রিয়া। একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে নিহত রিয়ার বাবা দুবাই প্রবাসী দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি আজ রোববার বিকেলে দেশে ফিরতে পারেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জাহাপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার দুবাই প্রবাসী রুস্তম মুন্সির একমাত্র মেয়ে রিয়া খাতুন নিকটবর্তী ঘোলদাড়ি বাজারস্ত প্রগতি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় স্কুল ছুটির পর রিয়া বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। মুন্সিগঞ্জ-খাসকররা সড়কের জাহাপুর গ্রামের শেখ পাড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যেক্ষদর্শীরা দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানায় রিয়া বাড়ি যাওয়ার পথে গ্রামের শেখপাড়ার সেলিম শেখের বাড়ির সামনে একটি গরু বাঁধা ছিলো। সড়কের এক পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেলিমের গরুটি শিং দিয়ে রিয়াকে মেরে সড়কের ওপর ফেলে দেয়। ঠিক এ সময় খাসকররা থেকে যাত্রীভর্তি একটি আলমসাধু আলমডাঙ্গা যাওয়ার পথে রিয়াকে ধাক্কা মারলে সে রক্তাক্ত জখম হয়ে সড়কের ওপর লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয় জনগণ রিয়াকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। দুর্ঘটনায় রিয়া মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায় এবং তার বাম পা ভেঙে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা রিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গতকাল শনিবার বেলা তিনটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজশাহী যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সচালক চুয়াডাঙ্গার রেল বাজারের মোজাম্মেলের তেলপাম্প থেকে গাড়ির তেল নেয়ার সময় রিয়া মারা যায়। গতকাল বিকেলে জাহাপুর গ্রামে রিয়ার লাশ পৌঁছুলে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। রিয়ার মা আছমা খাতুন একমাত্র মেয়ে নিহত হওয়ায় বুক ফাটা আহাজারিতে গোটা এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। দুবাই প্রবাসী রুস্তম মুন্সির এক ছেলে ও এক মেয়ে। দুর্ঘটনার শিকার আলমসাধুটি স্থানীয় জনগণ আটক রাখে। এলাকার সচেতনমহল জানায় সড়কের ধারে গরু-ছাগল বেঁধে রাখার কারণে অনেক জায়গায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গতকালই সন্ধ্যা সাতটায় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে রিয়ার লাশ দাফন করা হয়।