ঘোড়ার আগে গাড়ি জোড়ার রেওয়াজ পরিবহার করা দরকার

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’র আলোকে ২০১২ সাল থেকে নানান পর্যায়ে ষষ্ঠ হতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞান’ এই তিন বিভাগেই এটা বাধ্যতামূলক বিষয় হিসাবে চালু করা হয়েছে। সে হিসাবে পাঠ্যবইও ছাপানো হয়েছে। অথচ অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই বিভিন্ন শ্রেণিতে আইসিটি বিষয়ে পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। কিছু শিক্ষককে কিছু শিক্ষককে সীমিত পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে মাত্র।
যুগোপযোগী এই বিষয়টি ঠিকমতো না শিখেই শিক্ষার্থীরা পাস করে যাচ্ছে। শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে এরকম সমন্বয়হীনতা শুধু অগ্রগণযেগাগ্যই নয় নিন্দনীয় বটে। ইতঃপূর্বে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু নিয়েও একই অবস্থা তৈরি হয়। শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না দিয়েই শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো হয়েছিলো সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি, শেষ পর্যন্ত ভোগান্তি পোয়াতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এই সুযোগে সৃজনশীল পদ্ধতির গাইড বই ঠিকই বাহির হয়েছে। বাজারে গাইড বইয়ের রমরমা। অবাক হলেও সত্য যে, সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য অনেক শিক্ষকই গাইড বইয়ের সাহায্য নিয়ে থাকেন। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় তিনশত সরকারি কলেজ রয়েছে। এসব কলেজে একজনও আইসিটির শিক্ষক নেই। অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের সংক্ষিপ্ত একটি প্রশিক্ষণ দিয়েই আইসিটি বিষয়ে পড়ানোর দয়িত্ব দেয়া হয়েছে। সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের অবস্থাও অভিন্ন। প্রায় সাড়ে তিনশ স্কুলে আইসিটির শিক্ষক নেই। বাধ্যতামূলক করার ৫ বছরে শিক্ষক নিয়োগ দিতে ব্যর্থতা নিশ্চয় মন্ত্রণালয় অস্বীকার করতে পারে না। তাছাড়া দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল রয়েছে ১৬ হাজার ৯টি। এর মধ্যে সাড়ে ৮ হাজার স্কুলে এমপিওভুক্ত আইসিটির শিক্ষক নেই।। মাদরাসা রয়েছে ৬ হাজার ৪৭১টি, এর মধ্যে শিক্ষক নেই ৫ হাজার মাদরাসায়। আর অর্ধেকের বেশি বেসরকারি কলেজে আইসিটির শিক্ষক নেই। এই চিত্রের বিপরীতে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, ৩৬তম বিসিএসে আইসিটির শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দিতে পিএসসিকে বলা হয়েছিলো। পিএসসি জানিয়েছে পদ সৃষ্টি ছাড়া এইভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া যাবে না। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন, কোনো পদ্ধতি প্রণয়নের পূর্বেই কেনো নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হলো না?
যেকোনো বিষয়েই যথেষ্ট প্রস্তুতি ছাড়া তাড়াহুড়া করে কোর্স চালু করার খেসারত দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধিকার নিশ্চয় নীতিনির্ধারকদের দেয়নি জাতি। আইসিটি কোর্সসগুলো জন্য বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় পর্যায়ে অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে এর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। পদ সৃষ্টি করতে হবে। নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে হবে। তার আগে ঘোড়ার আগে গাড়ি জোড়ার রেওয়াজ পরিবহার করতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *