সাজানো নাটকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো অনেক বড় অন্যায়

এমন কিছু সাজানো ঘটনা থাকে আশপাশের আমজনতা বিষয়টি বুঝলেও কিছু বলার থাকে না, বলতে পারে না। এমন কিছু অভিযোগ থাকে, যার নূন্যতম সত্যতা না থাকলেও স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ঠিক, ঠিক বলে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তোষামোদকারীদের পরনের পোশাকও বেসামাল হয়ে পড়ে। আবার এমন কিছু নাটক আছে যার শুরুতেই হোতাকে শনাক্ত করে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। যেমনটি আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ পেরেছে কুষ্টিয়া কুমারখালীর সানোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রে। আর চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ বোয়ালমারীর রবিউল ইসলাম কাবার কনকনে শীতে শিশির ভেজা ঘাসের ওপর সটান পড়ে থাকা? তাও আবার হাত-পা বাধা!
ছোটখাটো অপরাধ করে অপরাধীর পার পাওয়ার চেয়ে সমাজের জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর হলো চক্রান্ত করে অন্যকে ফাঁসানো খলনায়কের হাসি। অপরাধ করে কেউ পার পেলে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায় বটে, আইন-বিচার ব্যবস্থার অতোটা ক্ষতি হয় না, যতোটা ক্ষতি হয় নিরপরাধী কোনো একজনও যদি শাস্তি ভোগ করে। সে কারণে বলা হয়, ১০ জন অপরাধী পার পেলেও অতোটা ধর্তব্য নয়, যতোটা ধর্তব্য একজন নিরপরাধী যদি হয়রানির শিকার হয়। সে কারণে অবশ্যই কোনটি মিথ্যা অভিযোগ, কোনটি গুরুতর অপরাধের পরও আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কারণে কেউ অভিযোগ তুলছে না, কোথায় কে কীভাবে নাটক করে অন্যকে ফাঁসানোর ফাঁদ পাতা হচ্ছে তার সবই দেখতে হবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের। যদিও আমাদের সমাজে তথা দেশে জনসংখ্যা অনুপাতে আইন প্রয়োগে নিয়োজিত লোকবলের সংখ্যা অপ্রতুল। তারপরও পুলিশ-ই যে ভরসা!
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা স্টেশন এলাকায় কুষ্টিয়া কুমারখালীর এক যুবক আসে। থানায় গিয়ে নালিস করে তার নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে টাকা কড়িসহ মূল্যবান মালামাল। এ নালিশ পেয়ে পুলিশ গড়িমসি না করে প্রকৃত ঘটনা জানতে গিয়ে অভিযোগকারী যুবক সম্পর্কেই উল্টো তথ্য পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাকেই ধরে থানার ঘেরা গারদে ভরা হয়। গতকাল দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় যেমন এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তেমনই তার পাশের একটি প্রতিবেদন নিশ্চয় পাঠককুলের দৃষ্টি কেড়েছে। মাঘের কনকনে শীত। দেশের সর্বনিম্ন যখন চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হচ্ছে ৬ দশমিক ৪ তখন ভোরে কমলাপুর পিটিআই মোড়ের অদূরবর্তী ফুটবল মাঠে শিশির ভেজা ঘাসের ওপর সটান পড়ে থাকা এক গ্রামপুলিশকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাত ও পায়ের বাঁধন থাকলেও তা যেমন রহস্যাবৃত্ত, তেমনই পড়ে থাকার ধরন ও তার দেয়া বর্ণনাও রহস্যাবৃত্ত। প্রশ্নবিদ্ধ।
অবশ্য সমাজই সমাজের সর্বোচ্চ বিচারালয়। অদৃশ্যমান এ বিচারালয় নিয়ে বাংলায় যে প্রবাদটি সর্বাধিক প্রচলিত তা হলো, সমাজের বিচার রয়ে সয়ে। স্থান-কাল-পাত্র ভেদে চরম মিথ্যা যদি কখনো সত্যের মুখোশ পরতে বাধ্য হয়? তার বিচার সমাজই করে, করে না। কখন কবে, কখন করে না? ওই স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সমাজই তার জবাব দেয়। অবশ্য সমাজের এ দায় অতোটা থাকে না যদি সমাজের স্বার্থেই নিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহের দায়িত্বপ্রাপ্তরা পেশাদারত্ব মানসিকতায় কর্তব্যপরায়ণ হয়। আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ যেমন এক যুবকের বেলায় দ্রুত বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পেরেছে, তেমনটি সর্বক্ষেত্রে সকলের বেলায় পারার মতো পুলিশ চাই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *