সরকারি সড়ক স্থাপনা নির্মাণ কাজে দুর্নীতি বন্ধ হবে কবে?

সরকারি সড়ক, স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ মানেই যেন নজিরবিহীন দুর্নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্তের আগেই তাকে কাজের মোট ব্যয়ের নির্দিষ্ট শতাংশ হারে কমিশন প্রদান প্রথাই শুধু নয়, কাজ করার সময় তদারক কর্তাদের কতোটা উৎকোচের বিনিময়ে কাজে কতোটা ফাঁকি দেয়া যায় তাও নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণকাজ নির্দিষ্ট সময়ের আগে নষ্ট হলে বা ধসে পড়লেও যেমন তদারক কর্তার জবাবদিহিতা থাকে না, তেমনই ঠিকাদারের বিরুদ্ধেও নেয়া হয় না তেমন ব্যবস্থা। এসব কারণে যা হওয়ার তাই হচ্ছে, সরকারি নির্মাণ সংস্কার কাজে দুর্নীতি নিয়মে দাঁড়িয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্তাদের আশাবাদ- তথ্যপ্রযুক্তির বদৌলতে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিযুক্তির ক্ষেত্রে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে। তাতে কি নির্মাণ কাজের গুণগত মান বাড়বে? যুগোপযোগী পদ্ধতি প্রণয়নের পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের প্রধান সড়ক শহীদ আবুল কাশেম সড়কের শহীদ হাসান চত্বর থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত অসংখ্য গর্তে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়ককে সড়ক বলা দুষ্কর, সড়কের হাল দেখে সড়কের বদলে চষা জমি বলাই দস্তর। গতকাল দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ৬৭ কোটি ৬১ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সরোজগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরের কুলপালা পর্যন্ত সড়ক পুনঃনির্মাণের ঠিকাদার নিযুক্ত হয়েছে। কাজ করার আদেশপত্র পেয়েও ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি। কবে নাগাদ কাজ শুরু করবেন, কবে নাগাদ সড়কটির বেহালদশা দূর হবে কে জানে? তবে আগামী বছর তথা ২০১৮ সালের ১৯ জুনের মধ্যেই সড়কের কাজ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদিও নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের সময়সীমার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা নানা অজুহাতে উপেক্ষারও বহু উদাহরণ রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ থেকে কুলপালা পর্যন্ত সড়কটির পুনঃনির্মাণ কাজে নিযুক্ত ঠিকাদার বর্ষার কারণে বিলম্ব করছেন বলে সূত্র জানালেও দুর্ভোগ যে অসহনীয় মাত্রায় তা তিনিও নিশ্চয় উপলব্ধি করছেন। অপরদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে ক্ষত স্থানে ইট-বালি দিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টাও চলছে। যদিও এ কাজের জন্য বরাদ্দকৃত বার্ষিক কোটি টাকা পূর্বেই নাকি খরচ হয়েছে। চলতি বছরের বরাদ্দ আসার আগেই বাকিতে কাজ করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা বাসটার্মিনাল থেকে শহীদ হাসান চত্বর পর্যন্ত খানাখন্দে ভরা সড়কটির ক্ষত স্থানে ইট-বালি দিতে গত কয়েক মাসে কতো টাকা খরচ হয়েছে? প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ প্রশ্নের জবাব মেলেনি। ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সামনে নিশ্চয় সময়মতো শর্ত মোতাবেক ভাউচার পেশ হয়, হচ্ছে। বাস্তবে রাস্তায় ইট-পাথর নাকি ইটবর্ণের মাটি আর বালির নামে বেলে মাটি দেয়া হচ্ছে তা দেখছেন কি কখনও?
শুধু সড়ক ও জনপথ বিভাগের ক্ষেত্রে নয়, গণপূর্ত থেকে শুরু করে যতোগুলো প্রকৌশল বিভাগ রয়েছে তার সবক’টিতেই অবকাঠামো নির্মাণ কাজের ঠিকাদার নিযুক্ত থেকে শুরু করে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন। কোনো কাজই একক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের না দিয়ে দরপত্র আহ্বানের মধ্যদিয়ে রড, সিমেন্ট, পাথর, বালি এবং লোকবল পৃথক পৃথকভাবে সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত করার পদ্ধতি চালু করতে হবে। আর নির্মাণ কাজ সরাসরি তদারকি করবেন বিভাগীয় উপপ্রকৌশলীরা। কাজে কোনো রকমের ফাঁকি ঝুঁকি হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যেমনটি প্রতিবেশী দেশে রয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি নির্মাণ কাজের গুণগত মান পরিমাপের যন্ত্র দিয়ে মাপজোঁক করেই অর্থ পরিশোধ প্রয়োজন। কোনোরকম ত্রুটি ধরা পড়লে সবার আগে তদারক কর্তার শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে বহুলাংশে হ্রাস পাবে দুর্নীতি।

Leave a comment

Your email address will not be published.