সম্পাদকীয় দূর হোক বাল্য বিয়ে দেয়ার ক্ষতিকর প্রবণতা

জন্মসনদের ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই সমাজে পড়তে শুরু করেছে। এরপরও তা জাল করে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ের আসনে বসানোর অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। কেন? ওরকম পাত্র আর জুটবে কী জুটবে না তা নিয়ে দুর্ভাবনার পাশাপাশি স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্তকারীদের উৎপাতসহ নানা সমস্যার কারণেই কিছু অভিভাবক ভুল পথে পা বাড়াচ্ছেন। পাত্র পাওয়া না পাওয়া নিয়ে দুর্ভাবনার জন্য অসচেতনতা দায়ী হলেও অন্যান্য সমস্যাগুলো যে সামাজিক তা বোদ্ধারা নিশ্চয় অস্বীকার করবেন না।

বাল্যবিয়ের একটিও সুফল নেই। অপ্রাপ্ত বয়সে ছেলে বা মেয়েকে বিয়ের আসনে বসানো মানে তার অনাগত ভবিষ্যতকে শুধু সীমিতই করা হয় না, দাম্পত্যের পুরো সুখটাই কেড়ে নেয়া হয়। সমাজে এরকম উদাহরণ ভুরিভুরি হলেও সচেতনতার অভাবেই মূলত বাল্যবিয়ে দেয়ার পথে হাঁটেন অভিভাবকরা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা সমাজে সচেতনতার আলো ছড়ানোর নানামুখি কর্মসূচি হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করলেও সমাজ থেকে যে বাল্যবিয়ের প্রবণতা পুরোপুরি দূর হয়নি তা নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না। তবে বিগতদিনের তুলনায় বহুগুন হ্রাস পেয়েছে বাল্যবিয়ে। এরপরও জন্মসনদ জাল করে ১৩ বছরের মেয়েকে ১৯ বছর বলে দাবি করে বিয়ের আসনে বসানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে জন্মসনদ জাল করা হয়েছে। এসব অভিযোগকে কোনো অজুহাতেই খাটো করে দেখা উচিত নয়। বরঞ্চ অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু পদক্ষেপ প্রয়োজন।

উত্ত্যক্তকারী? সামাজিক ব্যাধি। সমাজের সাধারণ মানুষ এবং অভিভাবক সমাজ একটু দায়িত্বশীল হলে উত্ত্যক্তকারী থাকার কথা নয়। অবশ্য কেউ কেউ এককভাবে সামাজিক দায়িত্বপালন করতে গিয়ে তাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। সমাজের যে কোনো সমস্যা সামাজিকভাবে উৎখাত করতে দরকার সামাজিক আন্দোলন তথা সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এ প্রচেষ্টা তরান্বিত করতে জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বিগতদিনের তুলনায় এখন অনেক তৎপর। মেয়ের বয়স কতো? অপ্রাপ্ত বয়সের মেয়েকে প্রাপ্ত বয়সী বলে দাবি করে কোনো অসচেতন পিতা-মাতা বাল্যবিয়েতে বসাতে চাইলে পূর্বে কিছুই করার থাকতো না। এখন সে পরিস্থিতি নেই। জন্মনিবন্ধনই সাক্ষ্য দেবে মেয়ে বা ছেলের বয়স কতো। অবশ্য জন্মনিবন্ধন জাল করার মতো দুর্নীতি বন্ধ না হলে বাল্যবিয়ে শূন্যের কোটায় নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

জন্মনিবন্ধনও যদি ইচ্ছেমতো সংগ্রহ করা যায়, আর তাতে যদি ইচ্ছেমতো জন্মতারিখ লেখা হয় তা হলে? এটা ভেবেই জন্মনিবন্ধন সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়নি। এক সময় জন্মসনদ দিয়েই জন্মনিবন্ধনের বিধি চালু হবে। আর জাল? ওটা যেহেতু দুর্নীতি সেহেতু দুর্নীতি দমনে বিধিসম্মত শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি সমাজের অধিকাংশ সমস্যা দূর করতে সহায়ক। পূর্ণ সুফল পেতে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। দরকার ছেলে বা মেয়ের পিতা-মাতার দায়িত্বশীলতা।

Leave a comment

Your email address will not be published.