শিশু অধিকার বিষয়ে সচেতনতা

 

শিশুরা এই জগতে সবচেয়ে কোমল ও গুরুত্বপূর্ণ। থাকবে শিশু সবার মাঝে ভালো, দেশ-সমাজ পরিবারে জ্বালবে আশার আলো এই প্রতিপাদ্য সম্মুখে রেখে দুই দিন আগে শুরু হয়েছে শিশু অধিকার সপ্তাহ। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহে শিশুরা সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় থাকে। শিশুর অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য এই ধরনের সপ্তাহ বা দিবস বিশেষ সচেতনতা সৃষ্টি করে বটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই শিশুদের নিয়ে বিশ্ব পরিমণ্ডলে নানান জল্পনা শুরু হয়েছিলো। সেই সময়ই প্রথমবারের মতো বিশ্বের সচেতন মানুষ অনুধাবন করতে পারেন যে, বিশ্বব্যাপী যতো হানাহানি হয়, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা।

একশ বছর পূর্বে যে সমস্যা গভীরভাবে অনুধাবিত হয়, তা আজ আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এটা পরিতাপের নিঃসন্দেহে। ১৯২৪ সালে জেনেভা ঘোষণায় বলা হয়েছিলো- মানব জগতে সর্বোত্তম যা কিছু দেয়ার আছে তা শিশুরাই পাওয়ার যোগ্য। পরিহাসের কথা হলো, এই ঘোষণার দেড় দশকের ভেতরে শুরু হয় এই জগতের সবচেয়ে ভয়াবহ সমর- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে অন্যান্য সব যুদ্ধের মতোই সবচেয়ে হীন ও নৃশংসভাবে পদদলিত হয় শিশু অধিকার। ১৯৪৮ সালে বিশ্বের মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে দুটি অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে উচ্চারিত হয় শিশু অধিকারের কথা। অতঃপর ১৯৫৩ সালের অক্টোবর মাসে ইউনিসেফ এবং আন্তর্জাতিক শিশু কল্যাণ ইউনিয়ন-এর উদ্যোগে শিশুদের বিশেষ বিবেচনায় আনয়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয় বিশ্ব শিশু দিবস। সেই থেকে শুরু। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দশটি বছরকে শিশু দশক হিসেবে পালন করার পর ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয় শিশু অধিকার সনদ।

শিশু অধিকার আজ বিশ্বব্যাপী সমুচ্চারিত। কিন্তু শিশুদের প্রকৃত দুরবস্থার কতোটা পরিবর্তন সম্ভবপর হয়েছে? সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বটে। সভা, সেমিনার, দিবস বা সপ্তাহ পালন ইত্যাকার বিভিন্ন তত্পরতার আড়ালে এখনো মুখ লুকিয়ে কাঁদে শিশুর অধিকার। যেসব শিশুরা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং যারা এই বঞ্চনার নেপথ্যের কুশীলব- তারা শিশু অধিকার বোঝে না, সনদ বোঝে না, দিবস-সপ্তাহ বোঝে না। যে পরিবারটির ন্যূনতম অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটেনি, সেই পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুর অধিকার অনুধাবন করার মতো ফুরসত ওই পরিবারের নেই। না থাকারই কথা। আর আজ বিশ্বের যেসব অঞ্চলে গৃহযুদ্ধ হচ্ছে, সেখানে সবচেয়ে বেশি অসহায় ও নাজুক অবস্থায় রয়েছে শিশুরাই। তাদের নিয়ে রাজনীতি হয়, সমরনীতি হয়, তাদের নানা কূটকৌশলে ব্যবহারও করা হয়। সুতরাং অর্থনৈতিক মুক্তি ও বিশ্বশান্তিই পারে শিশু অধিকারকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমুন্নত করতে। সেই মুক্তি ও শান্তির পতাকা উড়ুক বিশ্বের প্রতিটি গৃহে। শিশুদের কাছে যেন এই বিশ্ব তার অপরাধের বহর আর না বাড়ায়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *