শিক্ষার আলো ও আইন তো সমাজকে সুন্দর করার জন্যই

উদারতার মধ্যদিয়েই মানুষের মহত্ব ফুটে ওঠে। যদিও স্বার্থের মোহে অন্ধরা সেই সুযোগটিই খোঁজে, পেতে চায়। তাই বলে সামান্য স্বার্থ নিয়ে হানাহানিতে লিপ্ত হতে হবে? তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধ, স্বার্থের মোহে অন্ধত্ব বরণ এবং সংঘর্ষে হতাহতের অনাকাঙ্ক্ষিত খবর হররোজই মিলছে। এর মধ্যদিয়ে যা ফুটে উঠছে তা হলো নীতি-নৈতিকতার স্খলনচিত্র। সমাজে আইন আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেমন আছে তেমনই শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। এরপরও  মানবিক মূল্যবোধ হ্রাস পাচ্ছে কেন? কেন বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা? তবে কি আইন প্রয়োগে স্বচ্ছ্বলতা ও উপযুক্ত শিক্ষার অভাব?

 

চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া গ্রামটি মাদককারবারীদের কারণে বহুল আলোচিত। গ্রামটি ভৌগলিকভাবে দামুড়হুদার দর্শনা পুলিশি তদন্তকেন্দ্রের নিকট অবস্থিত। ভারত সীমান্তও খুব কাছে। মাদক চোরাকারবারীদের অধিকাংশই মাদক পাচার করে আনার পর ওই গ্রামে রাখে। সেখান থেকে দেশের অভ্যন্তরে পাচার করা হয়। এ গ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহের অনেক সদস্যই ঘোরে। আবার পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার নামে মাসোহারা আদায়ের জন্য চিহ্নিত কিছু ব্যক্তিকে ঘুরঘুর করতে দেখা যায়। সেই গ্রামে শরিকি জমি নিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে চাচা-ভাতিজাদের মধ্যে সংঘর্ষ  হয়েছে। চাচার লাঠির আঘাতে দু ভাতিজার একজন মৃত্যুর সাথে লড়ে অবশেষে হেরে গেছে। গতকাল শনিবার তার মৃত্যু হয়েছে। যে চাচারা জমি নিয়ে ভাতিজাদের সাথে বিরোধে জড়িয়েছে, তারা এখন খুন মামলার আসামি হবেন। রক্ষা পাওয়ার পাঁয়তারা তো থাকবেই। গুরুতর অপরাধ করে কেউ পার পাক তা কাম্য নয়।

 

শুধু আকন্দবাড়িয়ায় নয়, প্রায় প্রতিটি গ্রামেই শরিকি জমি নিয়ে অসংখ্য পরিবারের বিরোধ মাঝে মাঝেই ফুটে ওঠে। কোনো কোনো বিরোধ হানাহানিতে রূপ নেয়। সব বিরোধ, সকল পরিবারের বিরোধ নগ্নতা পায় না। যে পরিবারের বিরোধ হানাহানিতে রূপ নেয় সেই পরিবারের মধ্যে উদারতার বদলে সকলেই জেতার মানসিকতা সুপ্তভাবে হলেও নিশ্চয় লালন করে। তারই খেসারত দিতে হয় রক্ত দিয়ে। সমাজে অহরহ এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও একটি পরিবারের দশা দেখে দেখে অন্য পরিবারের সদস্যরা কি শিক্ষা নিচ্ছে? নাকি ছাড় না দিয়ে হানাহানিতে জড়িয়ে লাভবান হওয়ার দিকেই ঝুঁকছে? আইনের স্বচ্ছ প্রয়োগ অবশ্যই অপরাধ প্রবণতা রোধ করে। কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে অপরাধপ্রবণতা বহুলাংশে হ্রাস পায়। পারিবারিক খুনের অপরাধকে লঘু অপরাধ হিসেবে নয়, গুরুতর অপরাধ হিসেবেই দেখা হয় এবং আইনানুযায়ী শাস্তিও সর্বোচ্চ। এরপরও পারিবারিক অপরাধ প্রবণতা আশাতীতভাবে হ্রাস পাচ্ছে কি?

 

পড়শির পতন ঘটছে ঘটুক, মরছে মরুক ভেবে মুখ ফেরানোরাও কিন্তু নিরাপদ নন। যে শিক্ষা মানুষকে মহৎ করে, ধৈর্যশীল করে এবং অন্যকে সম্মান করতে শেখানোর পাশাপাশি নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে বুঝতে শেখায় সেই শিক্ষার আলো ছড়িয়েই সমাজকে আলোকিত করা দরকার। এজন্য পড়শিসহ সমাজের আলোকিত মানুষগুলোকেই অধিক দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। একই সাথে দরকার আইনের স্বচ্ছ প্রয়োগ। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। আইন তো সমাজকে সুন্দর করার জন্যই। সকলে হোক ন্যায় নীতিবান, উদার, সহনশীল ও কর্তব্যপরায়ন।

পুনশ্চঃ ধৈর্যশীলকে সৃষ্টিকর্তা পছন্দ করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *