শহরে ও গ্রামে অপচিকিৎসা রোধে দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন

 

দু একজন নয়, সমাজে ভুয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ছড়াছড়ি। চকচকে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে, বড় চেম্বার করে এদের অনেকেই চিকিৎসার নামে রোগী সাধারণের সাথে প্রতারণা করছে। প্রতিকার মিলছে না। মাঝে মাঝে দু একজন ভুয়া চিকিৎসক ধরা পড়লেও অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যারা ধরা পড়ছে তাদের কেউ দণ্ডিত হচ্ছে। তাদেরই আবার অনেকে নাম ও স্থান বদলে আবারও অভিন্ন কৌশলে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে। ফলে এদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান প্রয়োজন। এ অভিযানের অগ্রভাগে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদেরই থাকা উচিত।

 

স্বাস্থ্য বিভাগে অনিয়মের অন্তঃনেই। শহরে এবং গ্রামগঞ্জে গড়ে তোলা হচ্ছে ক্লিনিক বা নার্সিং হোম। এসব স্থানে স্বাস্থ্যসেবার নামে শুধু অর্থবাণিজ্যই চলছে না, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতারণা করা হচ্ছে। সেবিকা থাকার কথা থাকলেও তা যেমন থাকছে না, তেমনই চিকিৎসকেরও হদিস মেলে না। আর পরিবেশ? যে পরিবেশে অস্ত্রোপচার করা হয় সেখানে রোগীর রোগ আরও বেড়ে যাওয়ার কথা। অনেক ক্ষেত্রে হচ্ছেও তাই। আর যে চিকিৎসকের অস্ত্রোপচার করার সুযোগ নেই, তিনি তো করছেনই, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন নৈশপ্রহরীও অস্ত্রোপচার করছে। এরকম অভিযোগও মাঝে মাঝে উত্থাপতি হচ্ছে। প্রসূতির সন্তান প্রসবে টেনেহেঁচড়ে কেটে ছিঁড়ে ভুমিষ্ঠ করারও নজির মিলছে। এ অবস্থা ক্লিনিকগুলোতে, আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজে প্রতারণার দোকান খুলে বসে প্রতারকরা? তারা চিকিৎসার নামে যা করছে তাতে রোগ নিরাময়ের বদলে জটিলতা বাড়ছে। এতো এলোপ্যাথির খণ্ডচিত্র, আর হোমিওপ্যাথি? পিতার চেম্বারে বসে ছেলেও যেমন চিকিৎসক, তেমনই ছেলের ছেলেও। এরা চিকিৎসক নাকি তাদের চেম্বারই চিকিৎসা দেয়? জবাব মেলে না। আর দাঁতের চিকিৎস? এর চিত্র আরো ভয়াবহ। অবশ্য জনগণের কিছুটা সচেতনতার কারণে হাটবাজারের সেই মজমার আধিক্য কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। রাস্তার ধারে ধারে ডেন্টাল ক্লিনিক নামে চেম্বার করে অনেক আনাড়িই রোগীর যন্ত্রণা উপশমের বদলে অকালে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মামলাও যে একেবারে হচ্ছে না তাও নয়। চুয়াডাঙ্গা ভিমরুল্লা এরাকার এক ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তিনি ফের তার পূর্বাবস্থায় ফিরেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না কেন? দায়িত্ব কার? অবশ্যই স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের। তারা ভুয়া চিকিৎসকদের শনাক্ত করবেন, অপচিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন? তা কি করা হচ্ছে?

 

স্বাস্থ্যবিভাগের প্রশাসানিক কর্মকর্তাদের একটু নড়েচড়ে বসা দরকার। বিবেকের তাড়নায় হলেও অন্তত চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা বন্ধে দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। যদিও স্বাস্থ্যবিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে অন্যেয়ের সাথে আপস করে নীরব থাকেন। সেই নীরবতা দূর করতে হলে জবাবদিহিতা দরকার। সে জন্য দরকার সরকারের পদস্থ দায়িত্বশীলদের বাস্তবমুখি পদক্ষেপ নেয়া। উদাসীনতা দেশের স্বাস্থ্যবিভাগে অনিয়ম যেমন পেয়ে বসছে, তেমনই শহরে ও গ্রামে প্রতারিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *