লাভ-লোভের অঙ্ক কষতে হবে পদে পদে

 

আশেপাশেই ঘুর ঘুর করছে প্রতারকচক্র। সামান্য অসতর্কতা আর লোভে পড়লেই প্রতারকরা পথে বসিয়ে ছাড়ছে। কে কতোটা কষ্টে রুগ্ন গরু মোটাতাজা করলো, আর কতো টাকা ধার-কর্য করলো তা প্রতারকদের দেখার বিষয় নয়, কে কতোটা লোভের ফাঁদে পা দিচ্ছে, কার কতোটা সহজে ঠকানো যাচ্ছে সেটাই প্রতারকদের মূখ্য বিষয়। ফলে প্রতারকরদের কবল থেকে রক্ষা পেতে হলে সর্বক্ষেত্রে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। লোভ? প্রতারিত না হলেও তা পরিহার প্রয়োজন।

প্রতারকরা সবসময়ই নতুন নতুন ফাঁদ পাতে। মোবাইলফোনে প্রেমের অভিনয় করে ডেকে নিয়ে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় পুরোনো হয়েছে। এখন ফেসবুকে ভুয়া পরিচয়ে একাউন্ট খুলে অন্যের ছবি লাগিয়ে প্রেমের ছলনায় টাকা-কড়ি হাতিয়ে নেয়ার যেমন জোয়ার চলছে, তেমনই প্রতারক যুবকদের অনেকেই ডাক্তার বা বড় বড় ডিগ্রিধারী বলে পরিচয় দিয়ে সরলসোজা যুবতিদের সর্বনাশ করে ছাড়ছে। জিন সেজে প্রতারণা? দীর্ঘদিন ধরেই অব্যাহত রয়েছে। চকচকে ভদ্র পোশাক পরে যাত্রী সেজে পাশের যাত্রীর সাথে খাতির জমিয়ে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে অজ্ঞান করে অর্থকড়ি মূল্যবান মালামাল হাতিয়ে নেয়া তো বন্ধ হচ্ছেই না। যাত্রী সেজে ইজিবাইক, শ্যালোইঞ্জিনচালিত হরেক নামের অবৈধ যান? প্রতারকদের কবলে পড়ে চুয়াডাঙ্গারই দুজনের প্রাণ গেছে। মাঝে মাঝেই অবৈধযান হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ার খবর পত্রিকার পাতায় গুরুত্বসহকারেই ঠাঁই পায়। প্রতিকার কি মিলছে? মিলবে কি কখনো?

প্রতারকচক্র সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে থাকে। সুযোগ খোঁজে। নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে। বিশ্বাস জন্মানোর পরই প্রতারণা করে তারা। যেমন এক নারী ও এক পুরুষ কার্পাসডাঙ্গা থেকে যাত্রী সেজে এক চালককে জুস আর চা পান করিয়েই তার কষ্টার্জিত অর্থে কেনা শ্যালোইঞ্জিনচালিত আলমসাধুটি হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়েছে। প্রতারক দম্পতি সেজে বাসা বদলের আসবাবপত্র বহনের কথা বলে আলমসাধু হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ার ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম। কিছুদিন আগে দর্শনায় এক প্রতারক জুটি নিজেদের দম্পতি পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে পাশের বাসার সর্বস্ব নিয়ে চম্পট দিয়েছে। এসব প্রতারকের টিকি ছুঁতে পারে না পুলিশ। কীভাবে পারবে? পুলিশে লোকবল অপ্রতুল। দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তা ছাড়া প্রতারকরা যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশ্বাস স্থাপন করে লোভের টোপে প্রতারণা করে, সেহেতু সকলকে সজাগ হওয়া দরকার। বিশ্বাস? বাঙালির ঐতিহ্যের আতিথেয়তা? প্রতারকদের অপতৎপরতায় ওসবের অবশিষ্টটুকুও কি আর থাকছে?

প্রতারকচক্রের বাড়-বাড়ন্ত রুখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের দায়িত্বশীল কর্তাদের আন্তরিক হওয়া জরুরি। প্রতারকরা যতোটা দক্ষতায় প্রতারণা করে, তার চেয়ে অধিক দক্ষতার সাথেই তা প্রতিহত করতে না পারলে সমাজে প্রতারিতের সংখ্যা বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে নানামুখি কর্মসূচি হাতে নিয়ে তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। প্রতারকদের মূল অস্ত্র যেহেতু লোভের টোপ, সেহেতু স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় লাভ-লোভের অঙ্ক কষতে হবে পদে পদে।

Leave a comment

Your email address will not be published.